২ পৌষ ১৪২৪, রবিবার ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ , ৬:৩০ পূর্বাহ্ণ

ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে পালিয়েছে বড় ভাই, ছোট ভাইও... 


গো নিউজ২৪ | উপজেলা প্রতিনিধি আপডেট: ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার
ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে পালিয়েছে বড় ভাই, ছোট ভাইও... 
অভিযুক্ত দেলোয়ার

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ): ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় বখাটের ‘প্রেম প্রস্তাব’ প্রত্যাখ্যান করায় এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অপহরণ করে মারধর ও আপত্তিকর ছবি তোলার ঘটনা ঘটেছে।  এ ঘটনায় বখাটে অভিযুক্ত দেলোয়ারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলেও এখন পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

গত মঙ্গলবার নির্যাতিতা মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মেয়েটির পরিবারের অভিযোগ,  মামলা দায়েরের পর দেলোয়ার গা ঢাকা দিয়েছে। তবে দেলোয়ারের ছোট ভাই তপুল এখন ওই পরিবারের মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা শুরু করছে। পাশাপাশি মেয়েটির আপত্তিকর ছবি লোকজনের মাধ্যমে অনেকের মুঠোফোনে ছড়িয়ে দিয়েছে দেলোয়ার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অত্যাচারের শিকার ওই পরিবারটির বাড়ি উপজেলার সহনাটি ইউনিয়নে হতিয়র গ্রামে। ‘প্রেম প্রস্তাব’ প্রত্যাখ্যান করায় গত ২৬ নভেম্বর মেয়েটি কোচিং সেন্টার থেকে অটোরিকশায় চড়ে বাড়ি আসার পথে তাকে অপহরণ করে প্রতিবেশী তারা মিয়ার ছেলে দেলোয়ার। এরপর মেয়েটিকে একটি বাড়িতে আটকে রেখে মারধর ও মেয়েটির আপত্তিকর ছবি তোলে। বর্তমানে বখাটে দেলোয়ার ও তার লোকজনের অত্যাচারের ভয়ে ওই মেয়েটির পরিবারের উচ্চ মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, প্রাথমিকে অধ্যয়নরত আরও তিন বোন ও এক ভাইয়ের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। 

নির্যাতনের শিকার মেয়েটি বলে, ‘প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় দেলোয়ার আমাকে অপহরণ করে মারধর করে আপত্তিকর ছবি তোলে। এখন আমি যদি তাকে বিয়ে না করি তাহলে ছবিগুলো ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। এ ঘটনায় আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারছিনা।’

নির্যাতিতা মেয়েটির বাবা বলেন, ‘আপত্তিকর ছবিগুলো গ্রামের অনেকের মোবাইলে ছড়িয়ে পড়েছে। আর দেলোয়ারের ছোট ভাই তপুল এখন নতুন করে আমার মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা শুরু করেছে। সাংবাদিকরা বাড়িতে আসলেই দেলোয়ারের পরিবার আমাদের গালি-গালাজ করে। দেলোয়ার স্থানীয় চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নানের আত্মীয় হওয়ায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সাহস পায়না। এখন ওদের নির্যাতন ও যন্ত্রনায় আমাকে হয় মরতে হবে নয়তো গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে হবে।’

এ বিষয়ে সহনাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, ‘কেউ আমার আত্মীয় হলেই যে অপরাধ করে পার পেয়ে যাবে এমনটা ভাবা ঠিক নয়। আমি মেয়েটির পরিবারের সাথে কথা বলে তাদের স্কুল-কলেজে যাওয়ার কথা বলেছি। এ ঘটনায় দেলোয়ারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মেয়েটির পরিবার চাইলে আমি তাদের সবধরণের সহযোগিতা করবো।’

অভিযুক্ত দেলোয়ারের মা আলেয়া বেগম বলেন, ‘আমাদের পরিবারের কোনো সদস্য মেয়েটির পরিবারকে গালি-গালাজ করেনা। উল্টো মেয়ের পরিবার আমার ছেলেকে মারধর করে তার মোবাইল রেখে দিয়েছে।’

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার আহমদ বলেন, ‘বখাটের দেলোয়ার সহ মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। অন্য কেউ মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গোনিউজ/এমবি