৯ ভাদ্র ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ২৪ আগস্ট ২০১৭ , ৭:১৫ পূর্বাহ্ণ

চুরির অপবাদে শিশুছাত্রীকে একি করলেন ৩ শিক্ষিকা!


গো নিউজ২৪ | স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বরিশাল আপডেট: ১২ আগস্ট ২০১৭ শনিবার
চুরির অপবাদে শিশুছাত্রীকে একি করলেন ৩ শিক্ষিকা!

বরিশাল: মাত্র একশ টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে মাদরাসার তৃতীয় শ্রেণির (তৃতীয় জামাতের) শিশু ছাত্রীর (৮) মুখে গামছা বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছেন বড় খালামনিসহ (মাদরাসার সুপার) তিন শিক্ষিকা। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পাশবিক এ ঘটনা ঘটেছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা সদরের খাদিজাতুল কোবরা (রা.) মহিলা কওমি মাদরাসার আবাসিক হলে। শুক্রবার (১১ আগস্ট) সকালে মাদারাসার আবাসিক হল থেকে গুরুতর অবস্থায় নির্যাতিতা ওই শিশুটিকে তার মা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন।

নির্যাতিতা ওই শিশু ছাত্রীর নাম কামরুন নাহার সুমাইয়া। সে উপজেলার পশ্চিম শাওড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী মো. কামাল হোসেন বেপারি ও রেনু বেগমের মেয়ে এবং ওই মাদরাসার আবাসিক হলে থেকে পড়াশুনা করতো।

রেনু বেগম জানান, প্রায় সাড়ে তিনবছর আগে তার একমাত্র শিশুকন্যা সুমাইয়াকে ওই মাদরাসায় ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে মাসিক তিন হাজার টাকা চুক্তিতে মাদরাসার আবাসিক হলে রাখা হয়। 

রেনু বেগম অভিযোগ করেন, শুক্রবার সকালে মাদরাসার এক ছাত্রী গোপনে তাকে ফোন করে জানায় তিন নারী শিক্ষক সুমাইয়াকে রাতে অমানুষিক নির্যাতন করেছেন। খবর পেয়ে তিনি সকাল ১০টার দিকে আবাসিক হল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় তার মেয়েকে উদ্ধার করেন।

এসময় মাদরাসার বড় খালামনি (সুপার) রেনু বেগমকে জানান, অপর এক ছাত্রীর ১০০ টাকা চুরির ঘটনায় সুমাইয়াকে শাসন করা হয়েছে। তবে কোন ছাত্রীর টাকা চুরি হয়েছে তা তিনি (সুপার) বলতে পারেননি।

নির্যাতিতা মেয়ের বরাত দিয়ে রেনু বেগম আরো অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) রাত সাড়ে আটটার দিকে একশ টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে মাদরাসার সুপার (বড় খালামনি হিসেবে পরিচিত) ও মেঝ খালামনি এবং বাংলা খালামনি তার মেয়ের মুখে গামছা বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন করেন। 

কান্না জড়িত কণ্ঠে রেনু বেগম আরো জানান, বড় খালামনির নির্দেশে মুখে গামছা বাঁধার পর মাদরাসার আবাসিক হলের মেঝ খালামনি গুণে গুণে তার মেয়েকে ৬০টি ও বাংলা খালামনি ১০০টি বেত্রাঘাত করেছেন। এতে তার মেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপরেও মেয়েকে তারা রাতের কোনো খাবার দেননি। 

খবর পেয়ে তিনি মেয়েকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে গৌরনদী হাসপাতালে ভর্তি করান। এ ঘটনায় তিনি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মাদরাসার  প্রতিষ্ঠাতা জাহিদুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়েছে। শিশুটিকে সুস্থ করে তুলতে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখনও কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গোনিউজ/এন