২ কার্তিক ১৪২৪, মঙ্গলবার ১৭ অক্টোবর ২০১৭ , ৯:১৭ অপরাহ্ণ
দিয়াজের ময়নাতদন্ত

চমেক বলছে ‘আত্মহত্যা, ঢামেক ‘হত্যা’ কোনটি সত্য?


গো নিউজ২৪ | আবু আজাদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চট্টগ্রাম আপডেট: ০২ আগস্ট ২০১৭ বুধবার
চমেক বলছে ‘আত্মহত্যা, ঢামেক ‘হত্যা’ কোনটি সত্য?

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফানের মৃত্যুর কারণ এসেছে ‘দুটি’। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) ফরেনসিক বিভাগ জানায়, দিয়াজ আত্মহত্যা করেছেন। এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ফরেনসিক বিভাগ বলছে, শ্বাসরোধে খুন হন দিয়াজ। এ অবস্থায় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন কোনটি সত্য- সেটি নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন।

মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডির চট্টগ্রাম অঞ্চলের সিনিয়র এএসপি হুমায়ুন কবির গোনিউজকে বলেন, ‘দুই ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের মধ্যে বড় পার্থক্য আছে। ঢাকা মেডিকেলের দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। সেখানে দেয়া তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করলে বুঝা যায় দিয়াজ শ্বাসরোধজনিত কারণে খুন হন।’

এএসপি হুমায়ুন কবির গোনিউজকে আরও বলেন, ‘আত্মহত্যা উল্লেখ করে দেয়া চট্টগ্রাম মেডিকেলের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ ছিল না। এখন মৃত্যুর কারণ হত্যা- ধরে তদন্ত এগিয়ে চলছে। অবশ্য দুটি ময়নাতদন্তের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়টি আমাদের তদন্তে প্রাধান্য পাচ্ছে।’

দিয়াজের ছবি হাতে মা

এর আগে গত বছরের ২০ নভেম্বরে দিয়াজের লাশ উদ্ধারের পর পরিবার দাবি করে, বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণকাজের দরপত্র নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে চমেক হাসপাতালে প্রথম ময়নাতদন্তের পর ২৩ নভেম্বর চিকিৎসকরা ‘আত্মহত্যা’র কথা বলেন; ওই ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তিনজন ফরেনসিক চিকিৎসকের স্বাক্ষর ছিল।

২৪ নভেম্বর দিয়াজের মা জাহেদা আমিন বাদী হয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে আদালতের নির্দেশে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের জন্য দিয়াজের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। গত ৩০ জুলাই ঢামেক হাসপাতালে এই ছাত্রলীগ নেতার দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার চিকিৎসকের বরাত দিয়ে সিআইডি জানায়, দিয়াজের মৃত্যু শ্বাসরোধজনিত হত্যাকাণ্ড।

দুটি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আকাশ পাতাল ব্যবধান থাকা প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা খুলছেন না মুখ। দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত কর্মকর্তা ও ঢামেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ কিছু বলতে রাজি হননি। দিয়াজের মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা উল্লেখ করা চমেকের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সৈয়দ মো. কাশেমও এ ব্যাপারে কথা বলতে নারাজ।

মেয়র নাছিরের সমবেদনা

এদিকে দিয়াজের প্রথম ময়নাতদন্তে ‘ভুল’ কেন, তার ব্যাখ্যা চেয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা; মঙ্গলবার (১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ে দিয়াজ হত্যার বিচার দাবিতে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে তারা এই দাবি জানায়।

এ বিষয়ে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী গোনিউজকে বলেন, ‘দুটি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আলাদা হওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টরাই ভালো বলতে পারবেন। চট্টগ্রাম ও ঢাকা মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগে বিশেষজ্ঞরা আছেন। এখন তাদের উচিত হবে বিষয়টি পরিষ্কার করা।’

এদিকে মঙ্গলবার (১ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সিআইডির চট্টগ্রাম কার্যালয়ে গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা সিনিয়র এএসপি হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে কথা বলেছেন দিয়াজের বোন জুবাঈদা সরওয়ার নিপা ও তার স্বামী সরওয়ার আলম। 

এ প্রসঙ্গে জুবাঈদা সরওয়ার নিপা গোনিউজকে বলেন, ‘মামলায় যাদের আসামি করেছি তাদের ব্যাপারে জানতে চেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। এর বাইরে কাউকে আমরা সন্দেহ করছি কিনা সেটাও জানতে চেয়েছেন তিনি। মামলা সংক্রান্ত আরও কিছু তথ্য তিনি জানতে চান। আমরা যা যা জানি সব ওনাকে বলেছি।’ 

সহপাঠীদের মানববন্ধন

মামলা তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই জানিয়ে সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির গোনিউজকে বলেন, ‘দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেতে দেরি হয়েছে। তাই এখনো মূল জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি। হত্যা যেহেতু এসেছে এখন জড়িতদের খুঁজে বের করাই হবে প্রথম কাজ। মঙ্গলবার দিয়াজের বোনের সাথে কথা বলে কিছু তথ্য জেনে নিয়েছি।’

এদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মিথ্যা তথ্য দেয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিচার দাবি করেছেন দিয়াজের বোন জুবাঈদা সরওয়ার নিপা; তিনি গোনিউজকে বলেন, হত্যাকারীরা নানাভাবে মামলাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে। প্রথম ময়নাতদন্তে প্রভাবিত হয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে চমেক ফরেনসিক বিভাগ। তাই এর সাথে জড়িতদেরও শাস্তি দেয়া হোক। যাতে করে আগামীতে কেউ এরকম অপরাধ করার সাহস না পায়।’ 

গোনিউজ/এন