৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শনিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৭ , ৫:৫২ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েটির সাথে যা করলো তারা


গো নিউজ২৪ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০১৭ বৃহস্পতিবার
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েটির সাথে যা করলো তারা

প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে আটকে রাখে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ওই ছাত্রীকে পরে উদ্ধার করতে গিয়ে মারধরের শিকার হন ছাত্রফ্রন্টের আরেক নেতা। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল ক্যাম্পাসের কলা অনুষদের ঝুপড়ির সামনে। ভুক্তভোগী ছাত্রী প্রক্টরকে বিষয়টি জানিয়েছেন বলে জানান। মারধরের শিকার ছাত্রফ্রন্টের ওই নেতা হলেন চবি শাখার আহ্বায়ক ফজলে রাব্বী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা  জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বাংলা বিভাগের এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল ইংরেজি বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রিমন শিকদার। গতকাল রিমন কলা অনুষদের ঝুপড়ির সামনে গিয়ে ঐ ছাত্রীকে ডাক দেয়। তার ডাকে সাড়া না দেয়ায় একপর্যায়ে রিমন জোরপূর্বক তাকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

সে সময় এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় ফজলে রাব্বীর সঙ্গে কথাকাটাকাটি করে রিমন। পরে রিমনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের দশ পনেরো জন নেতাকর্মী ঝুপড়িতে এসে রাব্বীকে মারধর করে।

পরে রাব্বীর বন্ধুরা তাকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যায়। রিমন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চবি ছাত্রলীগের সভাপতির অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

এ প্রসঙ্গে ফজলে রাব্বী বলেন, রিমন দীর্ঘদিন ধরে এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করছিল। গতকাল প্রথমে সে ওই ছাত্রীকে কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের সামনে কিছুক্ষণ আটকে রাখে।

সেখান থেকে ওই ছাত্রী কলা অনুষদের ঝুপড়িতে চলে যায়। আমরা একসঙ্গে বসে ছিলাম ঝুপড়িতে। হঠাৎ রিমন এসে ওই মেয়েকে ডাক দেয়। মেয়েটি তার সঙ্গে কোথাও যেতে না চাইলে তাকে জোরপূর্বক হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে চেষ্টা করে।

আমি এর প্রতিবাদ করায় আমাকেও রিমনের নেতৃত্বে কয়েকজন ছাত্রলীগকর্মী মারধর করে। আমি বিষয়টি প্রক্টরকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি।’ উত্ত্যক্তের শিকার ওই ছাত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার সঙ্গে রিমনের কথা হতো। গতকাল সে আমাকে ডেকে এক জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। কিন্তু আমি যেতে রাজি হইনি।

রিমন আমাকে জোর করে তার সঙ্গে নিয়ে যেতে চায়। এর প্রতিবাদ করায় তারা রাব্বী ভাইকে মারধর করে। বিষয়টি আমি প্রক্টরকে জানিয়েছি।’ এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে লিখিত কোনো অভিযোগ তারা দেয় নি। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। যাচাই করে দোষী যেই হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

চবি ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আলমগীর টিপু বলেন, ‘বিষয়টি আমরা শুনেছি। তবে রিমন শিকদার নামে আমার কোনো কর্মী আছে কিনা তা যাচাই করে দেখছি। যদি সে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয় তবে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

গো নিউজ২৪/এএইচ