৪ কার্তিক ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ১৯ অক্টোবর ২০১৭ , ১১:২১ পূর্বাহ্ণ

ঘুরে আসুন প্রবাল দ্বীপ “সেন্টমার্টিন”


গো নিউজ২৪ | পর্যটন ডেস্ক আপডেট: ১৫ ডিসেম্বর ২০১৫ মঙ্গলবার
ঘুরে আসুন প্রবাল দ্বীপ “সেন্টমার্টিন”

অবস্থানঃ কক্সবাজার জেলা শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে সাগর বক্ষের একটি ক্ষুদ্র দ্বীপ সেন্টমার্টিন। সেন্টমার্টিন দ্বীপ ৭.৩ কি.মি. দীর্ঘ এবং কিছুটা উত্তর-দক্ষিন দিকে বিস্তৃত। দ্বীপের আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার। ভৌগলিকভাবে এটি তিন অংশে বিভক্ত। উত্তরাঞ্চলীয় অংশকে বলা হয় নারিকেল জিঞ্জিরা বা উত্তর পাড়া যা ২১৩৪ মিটার দীর্ঘ ও ১৪০২ মিটার প্রশস্ত। দক্ষিন অংশকে বলে দক্ষিন পাড়া যা ১৯২৯ মিটার দীর্ঘ। একটি সংকীর্ণ অঞ্চল এই দুই অংশকে যুক্ত করেছে যা মধ্য পাড়া নামে পরিচিত।

মূল দ্বীপ ছাড়াও কয়েকটি ১০০ থেকে ৫০০ বর্গমিটার আয়তন বিশিষ্ট ক্ষুদ্র দ্বীপ রয়েছে যা ছেড়াদিয়া বা ছেড়া দ্বীপ নামে পরিচিত। জোয়ারের সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে এর নাম ছেড়া দ্বীপ। মাছ সংগ্রহস্থল, বাজার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু উত্তর পাড়াতেই সীমাবদ্ধ।

বর্ণনাঃ যেদিকে চোখ যায় শুধু নীল আর নীল, আকাশ আর সমুদ্রের নীল সেখানে মিলেমিশে একাকার। চোখ জুড়ানো এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে ঘুরে আসুন বাংলাদেশের অনন্যসুন্দর প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন যার আরেকটি নাম নারিকেল জিঞ্জিরা।

অগভীর দীর্ঘ সমুদ্রতট, সামুদ্রিক প্রবাল, সাগরের ঢেউয়ের ছন্দ, প্রচুর দক্ষিণা হাওয়া, নান্দনিক নারিকেল বৃক্ষের সারি, সাগর তীরে বাঁধা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার এসবই সেন্টমার্টিন দ্বীপের মহাত্ম যা ছোট্ট এই দ্বীপটিকে করেছে অনন্যসুন্দর। বালি, পাথর, প্রবাল কিংবা নানা জীব বৈচিত্র্যের সমন্বয়ে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ পিপাসু মানুষের জন্য একটি অনুপম অবকাশ কেন্দ্র। এর স্বচ্ছ পানিতে জেলি ফিশ, হরেক রকমের সামুদ্রিক মাছ, কচ্ছপ, প্রবাল দেখতে পাওয়া যায় যা এই দ্বীপের অন্যতম আকর্ষন।

এটি বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ যার চারিদিকে শুধুই নীল সমুদ্র। দ্বীপের মোট আয়তন ৮ বর্গ কিলোমিটার। টেকনাফ থেকে ট্রলারে কিংবা জাহাজে যেতে সময় লাগে দুই থেকে সোয়া দুই ঘণ্টা। এর জনসংখ্যা প্রায় আট হাজার। দ্বীপের অধিবাসীদের প্রায় সবারই মূল পেশা মৎস্য শিকার। তবে ইদানীং পর্যটন শিল্পের বিকাশের কারণে অনেকেই রেস্টুরেন্ট, আবাসিক হোটেল কিংবা গ্রোসারি শপের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপের মানুষ নিতান্ত সহজসরল, তাদের উষ্ণ আতিথেয়তা পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। এখানে পর্যটকদের জন্য ভাল মানের হোটেলের পাশাপাশি স্বল্প খরচে থাকা-খাওয়ারও ব্যবস্থা রয়েছে। এই সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণে র‍য়েছে ছেড়া দ্বীপ যা বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত দ্বীপ। প্রচুর প্রবাল, পাথর, স্বচ্ছ পানিতে নানান জীব বৈচিত্র দেখতে হলে আপনাকে অবশ্যই ঘুরে আসতে হবে ছেড়া দ্বীপ। সেন্ট মার্টিন থেকে ট্রলারে মাত্র ২০ মিনিট লাগবে ছেড়া দ্বীপ পৌঁছতে। ভাটার সময় সেন্ট মার্টিন থেকে হেটেও ছেড়া দ্বীপ যাওয়া যায়।

কিভাবে যাবেনঃ ঢাকা থেকে সরাসরি টেকনাফের বাসে করে টেকনাফ গিয়ে সেখান থেকে সেন্টমার্টিন যেতে পারেন। ঢাকা থেকে টেকনাফ যায় সেন্টমার্টিন পরিবহন (০১৭১১৩২১১৪৩, ০১৭১১৬৬৬১০৯), এস. আলম সার্ভিস (৯৩৩১৮৬৪, ০১৭১৯৪৮৬৩৯), সৌদিয়া পরিবহন (০১৯১৯৬৫৪৯৩৫,০১৯১৯৬৫৪৮৫৮)ইত্যাদি।

যেতে সময় লাগবে প্রায় ১১-১২ ঘন্টা। এছাড়াও ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার যেতে পারেন এবং সেখান থেকে লোকাল বাস বা মাইক্রো/জিপ ভাড়া করে টেকনাফ হয়ে সেন্টমার্টিন আসতে পারেন। প্রতিদিন ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায় দূরপাল্লার নামী-দামী সব ধরনের বাস। উল্লেখযোগ্য হলো গ্রীন লাইন, সোহাগ, টিআর ট্রাভেলস, শ্যামলী, হানিফ, সৌদিয়া, ঈগল, এস আলম, সিল্ক লাইন, সেন্টমার্টিন ইত্যাদি। বাস ভেদে ভাড়া পড়বে ১০০০-২৫০০ টাকা। তাছাড়া ঢাকা থেকে বিমানে করেও সরাসরি কক্সবাজার যাওয়া যায়। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ আসতে সময় লাগবে প্রায় এক থেকে সোয়া এক ঘন্টা। টেকনাফ থেকে ৫ কি.মি. আগে জেটি ঘাটে নেমে ট্রলার বা সিট্রাকে করে সেন্টমার্টিন আসতে হবে।

সিট্রাকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কুতুবদিয়া, কেয়ারী সিন্দাবাদ, ঈগল, সুন্দরবন ইত্যাদি। আপ-ডাউন ভাড়া পড়বে ৫৫০-৮০০ টাকা। জেটি ঘাট থেকে প্রতিদিন সিট্রাক সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় সকাল ৯.০০-৯.৩০ মিনিটে এবং সেন্টমার্টিন থেকে ফেরত আসে বিকাল ৩.০০-৩.৩০ মিনিটে। সুতরাং নির্দিষ্ট সময়ের আগে অবশ্যই জেটি ঘাটে পৌছতে হবে নতুবা সিট্রাক মিস করবেন। সেই ক্ষেত্রে আপনাকে ট্রলারে করে যেতে হবে যা কিছুটা বিপদজনক। যারা রাতে থাকবেন তারা পরেরদিন একই সিট্রাকে করে ফেরত আসবেন।

কোথায় থাকবেনঃ সেন্টমার্টিনে থাকার জন্য বেশ কয়েকটি উন্নতমানের হোটেল ও কটেজ রয়েছে। তবে অবশ্যই তা আগে থেকে বুকিং দিয়ে যেতে হবে। নতুবা থাকার জন্য ভাল জায়গা পাওয়া যাবেনা। এছাড়াও সেখানে বিভিন্ন বাসা বাড়ীতে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে যার ভাড়া পড়বে ৮০০-১০০০ টাকা। থাকার জন্য উল্লেখযোগ্য হোটেল হলো – ব্লু মেরিন রিসোর্ট (ঢাকা অফিস-৯৫৫৬২৫১, ০১৭১৩৩৯৯০০০, সেন্টমার্টন-০১৭১৩৩৯৯২৫০), প্রিন্স হেভেন (০১৮৩৩৩৬০৩৩৩), সীমানা পেরিয়ে (০১৯১১১২১২৯২, ০১৮১৯০১৮০২৭), প্রাসাদ প্যারাডাইস (৮৮১৭৪০০, ৯৮৯১৯২২, ০১৫৫৬৩৪৭৭১১), কোরাল ব্লু রিসোর্ট (০১৭১৩১৯০০১৩, ০১৭১৩১৯০০০৭), লাবিবা বিলাস (০১৭৪৪১৩৬১৪৫, ০১৭১৪৬৩৪৭৬২), পর্যটন হোটেল অবকাশ (০১৮৬৬৯৮৯৮৫৫,০১৮৬৬৯৮৯৮৫৬,০১৮৬৬৯৮৯৮৬০) ইত্যাদি। ভাড়া পড়বে রুম ভেদে ১৫০০-৫০০০ টাকা।

এছাড়াও আরো আছে প্রয়াত লেখক হুমায়ুন আহমেদের সমুদ্র বিলাস, সেইলর মুন রিসোর্ট, বিচ ক্যাম্প, হোটেল সাগর পাড়, রিয়াদ গেস্ট হাউজ, মেরিন পার্ক, হোটেল স্বপ্ন প্রবাল, শ্রাবণ বিলাস, নীল দরিয়া, পালিনি রিসোর্ট, হোটেল সৈকত ইত্যাদি।

কোথায় খাবেনঃ পর্যটকদের খাবারের জন্য রয়েছে এখানে বেশ কিছু হোটেল ও রেস্তোরাঁ। তার কয়েকটি হল কেয়ারি মারজান রেস্তোরাঁ, বিচ পয়েন্ট, হোটেল আল্লার দান, বাজার বিচ, আসাম হোটেল, সি বিচ, সেন্টমার্টিন, কুমিল্লা রেস্টুরেন্ট, রিয়েল রেস্তোরাঁ, হাজী সেলিম পার্ক, সেন্টমার্টিন টুরিস্ট পার্ক, হোটেল সাদেক ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

সতর্কতাঃ প্রবালের উপর হাটার সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে নতুবা পা কেটে যেতে পারে। ভাটার সময় বিচে না নামাই ভালো। বিচের বালু বা পানিতে কোন প্রকার ময়লা আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকুন। এর সৌন্দর্য রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। সিট্রাকে ভ্রমনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে জেটিতে উপস্থিত হোন। যেহেতু সমুদ্রপথে যেতে হবে তাই যাবার পূর্বে আবহাওয়া সম্পর্কে তথ্য জেনে নিন। 

গো নিউজ২৪/বিএস

 আরও  বেড়াতে যেতে পারেন

প্রকৃতির এক অনন্যসুন্দর জায়গা ‘বিছানাকান্দি’

 

 

 

পর্যটন বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত