১ পৌষ ১৪২৪, শনিবার ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ , ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ

কে হচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট?


গো নিউজ২৪ | আন্তর্জাতিক ডেস্ক আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০১৭ বৃহস্পতিবার
কে হচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট?

আগামী ১৮ অক্টোবর বেইজিংয়ের গ্রেট হলে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির ১৯তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনের মাধ্যমেই তাদের পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচন করবে চীন। কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি দলটির শীর্ষ নেতা মানে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে। দলের সাধারণ সম্পাদকই দেশের প্রেসিডেন্ট হন।

সম্মেলন উপলক্ষে চীনের ক্ষমতা কার হাতে যেতে পারে-এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়েছে সিএনএন। তারা নেতৃত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে নানা দিকে এগিয়ে থাকা পাঁচজন ক্ষমতাধর ব্যক্তির কথা বলেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে প্রথম আলো। নিচে ৫জনের বিস্তারিত তথ্য দেয়া হল:

সি চিন পিং
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক জেফ্রে ওয়াসেরস্ট্রম বলেছেন, চীনের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের থেকে পাঁচজনকে তুলে আনা খুব কষ্টকর ব্যাপার। জেফ্রে বলেছেন, তারপরও যদি তালিকার শুরুতে কাউকে রাখতে হয়, তিনি প্রেসিডেন্ট ও কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং। চীনকে একটি শক্তিশালী দেশে রূপান্তরের স্বপ্ন দেখা বিপ্লবী নেতা দেং শিয়াও পিংয়ের পর সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি হয়ে উঠেছেন সি। হয়তো দলের এই সম্মেলনে তিনি নিজের ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারেন।

জ্যাক মা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা চীনের ক্ষমতাধর পাঁচ ব্যক্তির তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রেখেছেন অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জ্যাক মাকে। প্রেসিডেন্ট সির পরে তিনিই ক্ষমতাধর ব্যক্তি। তিনি একজন চীনের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি। তাঁর আসল নাম মা ইয়ুন। চায়নিজ ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের সেন্টার ফর চায়না স্টাডিজের অধ্যাপক উইলি লাম বলেন, অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও সাম্রাজ্য গড়ে তোলা যায়, তা জ্যাক করে দেখিয়েছেন।

ওয়াং কিশান
চীনের দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠানের প্রধান ওয়াং কিশান। তিনি বেইজিংয়ের সাবেক মেয়র ও ২০০৮ অলিম্পিকের আয়োজক ছিলেন। দ্য ইকোনমিস্ট সাময়িকীর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াং ২০১২ সালের নভেম্বরে দলের কেন্দ্রীয় কমিশন ফর ডিসিপ্লিন ইন্সপেকশনের (সিসিডিআই) দায়িত্ব নেন। এরপর থেকে সরকারের অনেক ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাঁকে যমের মতো ভয় করে। অনেকে আবার দুর্নীতির দলিলপত্র জমা দিয়ে তাঁদের অন্যায়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। নেতৃত্বে পেশাগত গুণের কারণে ওয়াং সজ্জন হিসেবে পরিচিত। প্রভাব-প্রতিপত্তি বিচারে চীনের রাষ্ট্রপতি সি চিন পিংয়ের পরই তাঁর অবস্থান। দুর্নীতিবাজেরা তাঁকে সবচেয়ে বেশি ভয় পায় বলে মনে করা হয়।

বিবিসি বলছে, দলের আসন্ন সম্মেলনে ওয়াংয়ের বয়স ৬৯ হবে। তাই সম্মেলনেই নিয়ম অনুযায়ী তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দিতে পারেন। তবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠজন হওয়ায় বিশেষ বিবেচনায় তাঁকে ক্ষমতা কাঠামোতে রাখা হতে পারে।

মা হুয়াতেং
চীনে ফেসবুক ও টুইটার নেই। তবে সবার স্মার্টফোনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইচ্যাট আছে। এটি চীনে খুবই জনপ্রিয়। এই উইচ্যাটের প্রতিষ্ঠাতা মা হুয়াতেং ফোর্বস সাময়িকীর দৃষ্টিতে দেশটির ধনকুবেরও বটে। উইচ্যাট পরিচালনাকারী টেনসেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মা হুয়াতেংয়ের ডাকনাম পনি।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের শীর্ষ পাঁচ ক্ষমতাধর ব্যক্তির তালিকায় মা হুয়াতেংকে দ্বিতীয় অবস্থানে রেখেছেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির দ্য ইউনিভার্সিটি চায়না সেন্টারের পরিচালক রানা মিতার। ইকোনোমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের চীনের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক টম র‍্যাফারটি তাঁর তালিকার তৃতীয় অবস্থানে রেখেছেন মা হুয়াতেংকে। তিনি বলেন, উইচ্যাটের মাধ্যমে চীনের অর্থনীতিতে বিশাল প্রভাব রেখেছেন মা।

লি কেছিয়াং
চীনা কমিউনিস্ট পার্টির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা লি কেছিয়াং ২০১৩ সালে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হলে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনে প্রায় তিন হাজার আইনপ্রণেতার ভোট পেয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। চীনের রাজনীতি বিশেষজ্ঞ ঝিইয়ু বো বলেন, চীনের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে দারুণ ভূমিকা রেখেছেন। নিঃসন্দেহে তিনি এখন ক্ষমতাধর মানুষ।

গো নিউজ২৪/এসআর