৫ আশ্বিন ১৪২৪, বুধবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ৫:১০ অপরাহ্ণ

কে এই হাবিবা, কীভাবে মিললো তার বর?


গো নিউজ২৪ | আল মামুন, জেলা প্রতিনিধি আপডেট: ১৫ জুলাই ২০১৭ শনিবার
কে এই হাবিবা, কীভাবে মিললো তার বর?

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: হাবিবা আকতার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরকারি শিশু পরিবারের নিবাসী। আজ থেকে দশ বছর আগে বাবা-মাকে হারিয়ে শিশু পরিবারে ঠাঁই হয়। সেখানেই তার বেড়ে ওঠা। পার করেছে তার শৈশব কৈশোর।

হাবিবার বাবার নাম নুরু মিয়া আর মা খোদেজা বেগম। জন্মের আগেই মারা যান বাবা আর চার বছর বয়সে চিরদিনের জন্য চলে যান মা। ছয় বছর বয়সে মামা মোশারফ হোসেন ও মামি লুৎফা বেগম তাকে নিয়ে আসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি শিশু পরিবারে। এখানে হাবিবার কেটে যায় ১২ বছর। এটাই তার পরিবার।

হাবিবা সেলাই, বুটিক ও কম্পিউটারের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ২০১৬ সালের শেষের দিকে হাবিবার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়। নীতিমালা অনুযায়ী, বয়স ১৮ বছর হলে তাকে ছাড়তে হয় শিশু পরিবার। এ কারণে মামা-মামিকে ডেকে তাদের হাতে তুলে দেয়া হয় হাবিবাকে।

তবে সদ্য কিশোরী থেকে তরুণী হয়ে ওঠা হাবিবার মায়া মায়া দৃষ্টি শিশু পরিবারের উপতত্ত্বাবধায়ক রওশন আরাকে ভাবিয়ে তুলেছিল। তাই তিনি হাবিবার পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত নেন। এ কারণে পরিচালনা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে দুই মাস পর আবারও হাবিবাকে শিশু পরিবারে নিয়ে আসেন তিনি।

পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের ভাবনা থেকে হাবিবার বিয়ে দেয়ার চিন্তা করেন রওশন আরা। বিষয়টি নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমানের সঙ্গেও আলোচনা করেন। এসপি আগ্রহ দেখান এ ব্যাপারে। বর হিসেবে কোনো ভালো ছেলের খোঁজ পাওয়া গেলে তাকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে সম্মত হন তিনি।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, আইনমন্ত্রী, স্থানীয় এমপি এবং সমাজসেবা অধিদপ্তর ও সরকারি শিশু পরিবারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এগিয়ে আসেন।

বরের সঙ্গে কনে হাবিবা

বর হিসেবে সন্ধান পাওয়া যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার খাড়েরার সোনারগাঁও গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে জাকারিয়া আলমের। গেল বছর পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন জাকারিয়া। এসপি মো. মিজানুর রহমানের সহায়তায় ছয় মাসের প্রশিক্ষণ শেষে বর্তমানে তিনি কুমিল্লায় কর্মরত আছেন। এই জাকারিয়াকেই হাবিবার বর হিসেবে ভাবা হয়। এরপর তার পরিবারকে ডেকে তাদের সম্মতি পলে বিয়ের দিন পাকা করা হয়।

হাবিবার বাবার ভূমিকায় থাকা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের উপস্থিতিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে কাজী আবু জামাল হাবিবা-জাকারিয়ার বিয়ে পড়ান। বিয়েতে উকিল বাবা ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার।

হাবিবার বিয়ের আয়োজনের শুরুটা করেছিলেন শিশু পরিবারের উপ তত্ত্বাবধায়ক রওশন আরা খাতুন। তিনি বললেন, ছেলে খুঁজে পেলাম। তার পরিবারকে ডাকলাম। এরপর স্টেপ বাই স্টেপ। পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেছেন, 'হাবিবা সুখে থাকুক এইটা আমরা চাচ্ছি। সেই সঙ্গে হাজার হাজার হাবিবার পাশে আমরা থাকবো এই প্রত্যাশা করি।

গো নিউজ২৪/এন