২ ভাদ্র ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ১৭ আগস্ট ২০১৭ , ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ

কার ইশারায় এক রাতেই হল থেকে সরে গেলো ‘রাজনীতি’?


গো নিউজ২৪ | বিনোদন প্রতিবেদক আপডেট: ১২ আগস্ট ২০১৭ শনিবার
কার ইশারায় এক রাতেই হল থেকে সরে গেলো ‘রাজনীতি’?

ঢাকা: যৌথ প্রযোজনার ছবির ভিড়ে গেলো ঈদে একমাত্র লোকাল প্রোডাকশন ছবি হিসেবে মুক্তি পায় বুলবুল বিশ্বাস পরিচালিত আলোচিত ছবি ‘রাজনীতি’। ‘নবাব’ ও ‘বস-২’ ছবির ঢামাঢোলে ‘রাজনীতি’র বাণিজ্য নিয়ে কিছুটা শঙ্কিত ছিলেন ছবির নির্মাতাও। কিন্তু ছবি মুক্তির প্রায় সাত সপ্তাহ পরে এসে যখন হিসেব কষলেন নির্মাতা, তখন দেখলেন ‘রাজনীতি’ও বাকি দুই ছবির চেয়ে কোনো অংশে কম দাপট দেখায়নি। শুধু তাই না ব্যবসায়িকভাবেও ছবিটি পেয়েছে দারুন সফলতা। অথচ শুরু থেকেই ছবিটি ‘পলিটিক্স’-এর শিকার। এমন অভিযোগ ছিলো সিনেমা মুক্তির শুরু থেকেই, যার চূড়ান্ত দেখা গেলো সম্প্রতি ‘শ্যামলী সিনেপ্লেক্স’-এ!

গেল ঈদে মুক্তি পায় বুলবুল বিশ্বাস পরিচালিত ছবি ‘রাজনীতি’। দেশের সুপারস্টার অভিনেতা শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসকে নিয়ে নির্মিত এই ছবিটি মুক্তির শুরুতেই যৌথ প্রযোজনার ছবি দুটোর পলিটিক্সের শিকার হয়ে হল সংখ্যা খুব একটা পায়নি। কিন্তু মুক্তির প্রথম সপ্তাহ যাওয়ার পর পাল্টে যায় চিত্র। সাধারণ দর্শকের রেসপন্সের উপর ভিত্তি করে ‘রাজনীতি’ ছবিটির প্রতি আগ্রহ দেখায় হল মালিকরা। দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই ‘রাজনীতি’র হল সংখ্যা বাড়তে থাকে। ছবিটি যৌথ প্রযোজনার আলোচিত ‘নবাব’ ছবির মতোই ব্যবসাসফল হয়। অথচ এই ছবিটিকে নিয়ে এখনো এক শ্রেণির ‘পলিটিক্স’ অব্যাহত। 

মূলত, ১১ আগস্ট শুক্রবার থেকে বুলবুল বিশ্বাস পরিচালিত আলোচিত ছবি ‘রাজনীতি’ মুক্তি পাওয়ার কথা রাজধানীর শ্যামলী সিনেপ্লেক্সে। সবই ঠিক ছিলো, আর সে অনুযায়ি নির্মাতা সোশাল সাইটে প্রচার প্রচারণাও করেছিলেন বেশ। কিন্তু বিপত্তি ঘটলো সিনেমা মুক্তির দিনে। কারণ, এদিন সকালে হল কর্তৃপক্ষ নির্মাতাকে জানান যে তারা ‘রাজনীতি’ ছবিটি মুক্তি দিতে পারছেন না। আর রাজনীতির বদলে এদিন তারা মুক্তি দেন যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘নবাব’।

এমন ঘটনায় ঢাকাবাসীর কাছে কড়জোরে ক্ষমা প্রার্থনা করে ফেসবুক লাইভে নির্মাতা বুলবুল বিশ্বাস। তিনি সবার উদ্দেশ্যে বলেন, দেশবাসী বিশেষ করে ঢাকাবাসীর কাছে কড়জোরে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, কারণ গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে ও খবরে আমরা একটি তথ্য দিয়ে আসছিলাম যে আমার এবারের ঈদের ছবি ‘রাজনীতি’ ১১ আগস্ট শুক্রবার থেকে রাজধানীর শ্যামলী সিনেপ্লেক্সে চলবে। সবই ঠিক ছিলো, আমরা অলরেডি ছবিটির প্রথম শো দেখতে বেরিয়ে গিয়েছিলাম। দর্শকও রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছিলো রাজনীতি দেখতে। ঠিক সেই মুহূর্তে আমাদের জানানো হলো যে, শ্যামলীতে এবারের ঈদের একমাত্র দেশীয় ছবি ‘রাজনীতি’ বন্ধ করে অন্য একটি ছবি চালানো হলো। ছবিটির নাম ‘নবাব’।

মুহূর্তেই কিভাবে হল কর্তৃপক্ষ কাউকে না জানয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিলো, এ ব্যাপারে নির্মাতা বুলবুল বিশ্বাস জানান, বিষয়টা কিভাবে নিবো বুঝতে পারছি না। এটাতো কোনো কথা হতে পারে না। সবকিছুর একটা প্রসিউডিউর আছে, সবকিছুর একটা অয়ে আছে। যেটা আমি ঠিকঠাক মেইনটেইন করে আমার ‘রাজনীতি’ সিনেমাটা শ্যামলীতে দিয়েছিলাম। তারাই চুক্তিবদ্ধ করেছিলো। আমরা তাদের হাতে পায়ে ধরেনি। তাদের মনে হয়েছে, রাজনীতি সিনেমাটা তাদের সিনেপ্লেক্সে চালানো উচিত, তাই তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো। কিন্তু হঠাৎ করে কি কারণে একদিনের ব্যবধানে আমার ছবিটাকে বন্ধ করে অন্য একটি ছবি তারা চালানোর সিদ্ধান্ত নিলো। এটা জানার আমার খুব ইচ্ছে।

প্রশ্ন ছুড়ে মারেন বুলবুল। বলেন, ‘রাজনীতি’ কি এতোই মানুষের কাছে ভয়ের কারণ? দর্শক যদি রাজনীতি দেখে, দেখতে চায় তাহলে কার সমস্যা? আর শ্যামলী হল মালিকের সঙ্গে আমার প্রযোজকের ব্যক্তিগত পরিচয় আছে। তারা দুজনেই পারিবারিকভাবেই পরিচিত। সেখানে বৃগহস্পতিবার দুপুরেও আমার প্রডিউসার সাহেব শ্যামলীতে যেয়ে মালিকের সঙ্গে প্রায় ঘণ্টাখানেক আলাপচারিতা করে এসেছেন।  এবং মালিকপক্ষ থেকে তারা প্রচণ্ড প্রশংসা করেছেন রাজনীতির। কিন্তু এক রাতের মধ্যে বা এক সকালের মধ্যে কি এমন হলো যে যার জন্য রাজনীতি বন্ধ করে নবাব চালানো হচ্ছে? 

ছবি মুক্তির শুরু থেকেই দেশীয় ছবি রাজনীতির জয়রথ থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে একটা পক্ষ এমন দাবী করে বুলবুল বিশ্বাস আরো বলেন, শুরু থেকেই রাজনীতিকে কোনঠাসা করার চেষ্টা করা হয়েছে। যারফলে আমরা মাত্র চল্লিশটা হল পেয়েছিলাম রাজনীতির জন্য। কিন্তু তারপরেও আমি ভেঙে পড়েনি। আমি জানতাম, আমার ছবিটি শুদ্ধ বাংলা সিনেমা। এই ছবিতে আমি আমার দেশের দর্শকের সঙ্গে একবিন্দু পরিমাণও ঠকায়নি। আর এও জানতাম, হল সংখ্যা কম পেলেও ছবিটি দর্শক গ্রহণ করবেই। কথা মতো দর্শকও ঈদের ছবি হিসেবে খুব ভালোভাবে গ্রহণ করেছেন। রাজনীতির জয়রথ চলছেই। কিন্তু বারবার সেই জয়রথকে থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, এবং এখনো হচ্ছে। আর রাজধানীর শ্যামলীতে মুহূর্তের সিদ্ধান্তে ‘রাজনীতি’ বন্ধ করে যৌথ প্রযোজনার ‘নবাব’ চালানো তার বড়ো প্রমাণ।

অন্যদিকে ‘রাজনীতি’ বন্ধ করে হঠাৎ কেনো ‘নবাব’ চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়ার পক্ষে শ্যামলী কৃর্তৃপক্ষের যুক্তি হলো, বুলবুল বিশ্বাসের রাজনীতি ছবিটি ইউটিউবে পাওয়া যাচ্ছে। আর সে কারণে তারা ছবিটি সিনেপ্লেক্সে না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

কিন্তু এমন যুক্তি মানছেন না রাজনীতি নির্মাতা। তার ওল্টো দাবী, রাজনীতি ইউটিউবে পাওয়া যাচ্ছে এটা সত্য, কিন্তু ‘নবাব’ওতো ইউটটিউবে পাওয়া যাচ্ছে। তাহলে রাজনীতির বেলায় সমস্যা থাকলে কেনো নবাব’-এর ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হলো? আর ইউটিউবের দোহায় কেনো ছবি যেদিন মুক্তি পাওয়ার কথা সেদিন দিচ্ছেন, তারা কি জানতো না যে ছবিটি ইউটিউবে আগেই চলে পাইরেসি হয়ে গেছে? এখন কেনো বলছেন? 

এরপর শ্যামলী কর্তৃপক্ষকে এসব রাজনীতি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বুলবুল বলেন, দয়া করে সিনেমা নিয়ে এসব বন্ধ করেন। আপনারা হল চালাচ্ছেন, হল চালানোর মতো চালান। কি করবেন আপনারা? এরপরেতো আমার ছবি আপনাদের হলে নিবেন না, তাইতো? করলাম না আর কাজ। আপনাদের ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে আপনারাই থাকেন। সবকিছু ছেড়েইতো সিনেমা বানাতে আসছিলাম।    

এরআগে গত সপ্তাহে রাজনীতি’ ছবিটি বক্স অফিসে কতোটা প্রভাব দেখালো এমনটা জানতে গো নিউজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় ছবির নির্মাতা বুলবুল বিশ্বাসের সঙ্গে। সেসময় তিনি জানিয়ে ছিলেন, প্রথমে ‘রাজনীতি’ হল সংখ্যা কম পেয়েছিলো বলে কিছুটা শঙ্কা ছিলো। শঙ্কায় ছিলাম হয়তো ‘রাজনীতি’ খুব একটা ব্যবসা করতে পারবে কিনা! কিন্তু এতো এতো মানুষের রেসপন্স পেয়েছি, যৌথ প্রযোজনার ঢামাঢোলে সব শঙ্কা পেছনে ফেলে রাজনীতিকে সবাই গ্রহণ করে। যারফলে ব্যবসাসফল ছবির তালিকায় আছে রাজনীতি। একই সঙ্গে আমিও সফল।

গো নিউজ/এমটিএল