৭ আশ্বিন ১৪২৪, শুক্রবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ৩:৪৬ অপরাহ্ণ

কাতারের তথ্য হ্যাকিংয়ে জড়িত সংযুক্ত আরব আমিরাত


গো নিউজ২৪ | আন্তর্জাতিক ডেস্ক আপডেট: ১৭ জুলাই ২০১৭ সোমবার
কাতারের তথ্য হ্যাকিংয়ে জড়িত সংযুক্ত আরব আমিরাত

কাতারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং সরকারি কিছু সামাজিকযোগাযোগ সাইটে সাইবার হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।

মে মাসের শেষের দিকে চালানো সাইবার হামলা বা হ্যাকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৌদি নেতৃত্বাধীন চার আরব দেশের সঙ্গে কাতারের কূটনৈতিক বিরোধের সূচনা হয়। ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, নতুন করে তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে কাতারে চালানো সাইবার হামলার সঙ্গে ইউইএর জড়িত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

গত সপ্তাহে এ বিষয়ে তারা নিশ্চিত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে দৈনিকটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের বরাত দিয়ে এটি জানিয়েছে মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ আল-ওতিবা এ অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। এক বিবৃতিতে একে ‘মিথ্যা’ বলেও দাবি করেন তিনি।

সাইবার হামলার মাধ্যমে ইরান, ইহুদিবাদী ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ স্পর্শকাতার বিষয়ে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আলে সানির নামে বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। ২৪ মে প্রকাশিত তার এ কথিত বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পারস্য উপসাগরের কোনও কোনও দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

এই ঘটনার পর গত ৫ জুন ‘সন্ত্রাসবাদে সমর্থন’ দেয়ার অভিযোগ তুলে কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দেয় সৌদি আরব এবং তার মিত্র মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন। পরে এই তালিকায় যুক্ত হয় মালদ্বীপ এবং লিবিয়া ও ইয়েমেনের পশ্চিমা সমর্থিত সরকার। সড়কপথ, নৌ-পথ ও আকাশ পথেও কাতারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে আরব দেশগুলো। অবশ্য ওই অভিযোগকে শুরু থেকেই ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে কাতারি প্রশাসন।

সম্পর্ক ছিন্নকারী চারটি আরব রাষ্ট্র ২২ জুন ১৩ দফা দাবির একটি তালিকা দেয় দোহাকে। এতে আল জাজিরা টেলিভিশন বন্ধ এবং ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করাসহ আরও কিছু দাবি পূরণের কথা বলা হয়। ওইসব দাবির তালিকায় আরও আছে: কাতারে নির্মিত তুরস্কের সেনাঘাঁটি বন্ধ করা এবং যেসব ব্যক্তিকে তাদের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসী আখ্যা দেয়া হয়েছে, তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে দেয়া।

শর্ত পূরণে ১০ দিনের সময়সীমা দেয়া হয়। সে সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ২ জুলাই দুইদিন সময় বাড়ানোর কথা জানায় সৌদি সূত্র। সেই সময়সীমাও শেষ হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার ঘোষণা দেয়া হয়। সম্প্রতি অবশ্য আল জাজিরা বন্ধের দাবি থেকে সরে এসেছে আরব দেশগুলো।

আরব বিশ্বের ইসলামি আন্দোলন মুসলিম ব্রাদারহুড, হিজবুল্লাহ, আল কায়েদা এবং ইসলামিক স্টেটের সঙ্গেও সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য বলা হয় কাতারকে। অবশ্য দেশটি আগে থেকেই বলে আসছে, এসব সংগঠনের সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই। কাতার শর্তগুলো মেনে নিলে প্রথম বছর প্রতি মাসে একবার দেশটির কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করা হবে। দ্বিতীয় বছরে তিন মাস পরপর এটা করা হবে এবং পরবর্তী ১০ বছর বাৎসরিকভাবে কাতারকে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, আরব দেশগুলোও দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, কাতার ইসলামপন্থিদের সহায়তার দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে মুসলিম ব্রাদারহুডের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখিয়ে আসছে দেশগুলো। সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই দলটি বর্তমানে নিষিদ্ধ। ব্রাদারহুড রাজতন্ত্রের বিরোধিতা করে এবং গণতান্ত্রিক পন্থায় সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। তাদের এই আদর্শকে হুমকি হিসেবে দেখে মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলো।

২০১২ সালে মিসরের ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ব্রাদারহুড নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় এলেও ২০১৩ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি। এরপর থেকে ব্রাদারহুড সমর্থকদের ওপর চালানো হয়েছে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর নির্যাতন। এতে সমর্থন দেয় সৌদি সরকার।

গো নিউজ২৪/ আরএস