১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, শনিবার ২৭ মে ২০১৭ , ১১:৪২ অপরাহ্ণ

এবার শিক্ষার্থীদের ৭৯ এর স্থানে ৮০ দেয়া হয়নি


গো নিউজ২৪ | স্টাফ করেসপন্ডেন্ট আপডেট: ০৮ মে ২০১৭ সোমবার
এবার শিক্ষার্থীদের ৭৯ এর স্থানে ৮০ দেয়া হয়নি

এবারের এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে নতুন পদ্ধতি প্রয়োগ করায় বিগত কয়েক বছরের তুলনায় পাসের হার এবং জিপিএ ৫ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বলা হচ্ছে শিক্ষকদের খাতা দেখার ক্ষেত্রে উদারনীতি থেকে সরে আসায় ফল বিপর্যয় ঘটেছে। তবে অধিকাংশই একে ফল বিপর্যয় বলতে নারাজ বরং ঢালাও পাস ও জিপিএ ৫ নীতি থেকে সরে আসায় সরকারকে সাধুবাদ জানিয়ে এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা।

বিগত চার থেকে পাঁচ বছরে দেখা গেছে যদি কোন পরীক্ষার্থী দুই থেকে তিন নম্বরের জন্য কোন বিষয়ে ফেল করতেন তবে তাদেরকে পাস করিয়ে দেয়া হতো। কিংবা ৭৭, ৭৮ অথবা ৭৯ পেলে তাদেরকে ৮০ দিয়ে এ প্লাস করে দেয়া হতো। তবে এবার আর সে পদ্ধতি অনুসরণ করেননি পরীক্ষকরা।

এবিষয়ে ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে বেশ কয়েকজন পরীক্ষক বিগত কয়েক বছরে তাদের উদারভাবে খাতা দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রধান পরীক্ষক (রাজধানীর একটি স্কুলের শিক্ষক) বলেন, বেশকিছুদিন আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কক্সবাজারের নতুন পদ্ধতি চালুসহ মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের কর্মশালায় তিনিও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে গত তিন বছরের কিছু খাতা নিয়ে আলোচনা হয়। এতে দেখা যায়, কোনো কোনো পরীক্ষক খুব দুর্বলভাবে খাতা দেখেছেন। যেমন একটি খাতায় হাজী মুহম্মদ মুহসীনকে কেন দানবীর বলা হয়, তার উত্তরে একজন লিখেছে তিনি দানব ও বীর ছিলেন, এ জন্য দানবীর বলা হয়। এ জন্য পরীক্ষক  তাকে নম্বরও দিয়েছেন। এ ছাড়া কোনো একজন পরীক্ষার্থী হয়তো একটি পত্রে ৭৭, ৭৮ বা ৭৯ পেল (প্রান্তিক নম্বর), সেখানে ৮০ নম্বর দেওয়া হতো। এতে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা বেড়ে যেত। অন্যদিকে পাস নম্বর পাওয়ার জন্য ২-৩ নম্বর ঘাটতি থাকলে তা পূর্ণ করে দেওয়া হতো। ফলে পাসের হার বেড়ে যেত।

ওই শিক্ষক বলেন, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় এ ধরনের নির্দেশনা ছিল না। যার যত নম্বর পাওয়ার কথা, তাকে তা-ই দিতে বলা হয়েছে। নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরীক্ষকদের নমুনা মডেল উত্তরমালা দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী পরীক্ষকেরা গুরুত্ব দিয়ে খাতা দেখেছেন। যে কারণে এবার ফল কিছুটা খারাপ হয়েছে।

ওই পরীক্ষকের কথার সত্যতাও মিলেছে এবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে। এবার শিক্ষার্থীদের বিষয় ভিত্তিক মোট নম্বরসহ ফলাফল প্রকাশের ফলে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডে দেখা গেছে অনেক পরীক্ষার্থীকেই ৭৯ পেলেও তাকে এক নম্বর বাড়িয়ে ৮০ করে দেয়া হয়নি।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জানিফা ইসলাম কুমকুম নামে এক পরীক্ষার্থীর প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে সে সাধারণ গণিত, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং রসায়নে ৭৯ নম্বর পেয়েছেন। কুমকুম ২০১৭ খ্রিস্টাব্দের এসএসসি পরীক্ষায় নর্থ সর্তা দর্গা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪ দশমিক ৬৮ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।

একইভাবে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ আরও বিভিন্ন বোর্ড থেকে এরকম অভিযোগ পাওয়া গেছে যে তারা ৭৯ নম্বর পেলেও তাদেরকে ৮০ করে দেয়া হয়নি। তবে ৭৯ নম্বর প্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা দাবী জানিয়েছেন, যারা কেবলমাত্র এক নম্বরের জন্য বিষয়গুলোতে এ প্লাস থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তাদেরকে যেন এক নম্বর বাড়িয়ে ৮০ করে দেয়া হয়।

পরীক্ষা খাতা মূল্যায়ন প্রসঙ্গে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আগে পরীক্ষকেরা খাতা নিয়ে যেতেন এবং নিজেদের মতো করে মূল্যায়ন করেছেন। এতে কেউ (শিক্ষার্থী) হয়তো লাভবান বা ক্ষতিগ্রস্ত হতো। এবার সঠিক মূল্যায়ন করে সারা দেশে সমতা আনা সম্ভব হয়েছে।

এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার প্রায় ৮ শতাংশ কমে গেছে। পাশাপাশি ফলের সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ-৫ কমেছে পাঁচ হাজার। গত কয়েক বছরের মধ্যে এটাই সবচেয়ে খারাপ ফল। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নতুন পদ্ধতিতে উত্তরপত্র মূল্যায়নে ‘ঢালাও’ নম্বর না পাওয়া এবং কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার গতবারের চেয়ে প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যাওয়ায় সার্বিক ফল খারাপ হয়েছে।


গো নিউজ২৪/এএইচ