১৪ চৈত্র ১৪২৩, বুধবার ২৯ মার্চ ২০১৭ , ৩:৩৩ পূর্বাহ্ণ

এবার ভারত-অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটীয় বিতর্কে জড়ালেন ওয়ার্নারের স্ত্রী


গো নিউজ২৪ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০১৭ রবিবার
এবার ভারত-অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটীয় বিতর্কে জড়ালেন ওয়ার্নারের স্ত্রী

ক্রিকেটের ইতিহাসে সম্ভবত এরকম ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। শনিবার সেই বিরল কাণ্ডটাই ঘটিয়ে বসলেন ক্যান্ডিস ফ্যালজন। অস্ট্রেলিয়ার বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান ডেভিড ওয়ার্নারের স্ত্রী। চাঁচাছোলা ভাষায় তিনি আক্রমণ করলেন ভারতীয় দলকে। বিরাট কোহলিদের মানসিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিলেন। এবং সেটাও সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইটে। যা নিয়ে রাঁচি টেস্ট ম্যাচের তৃতীয় দিনে রীতিমতো আলোড়ন পড়ে গেল। যদিও ক্যান্ডিস’কে সমালোচিতও হতে হল সোশ্যাল মিডিয়ায়।

ম্যাচের প্রথম দিন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ সেঞ্চুরি করার পর ভারতীয় ক্রিকেটারেরা কেউই তাঁকে অভিনন্দন জানাতে এগিয়ে আসেননি। ‘এবেলা খেলা’ সেই খবর লিখেওছিল। শুক্রবার, ম্যাচের দ্বিতীয় দিন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল সেঞ্চুরি করার পরেও দুই শিবিরের শৈত্যের ছবিটা বদলায়নি। ম্যাক্সওয়েল’কেও অভিনন্দন জানাননি ভারতীয় দলের কোনও ক্রিকেটার।

শনিবার যা নিয়ে বোমা ফাটালেন ওয়ার্নার-পত্নী। ‘স্টিভ স্মিথ সেঞ্চুরি করার পর অভিনন্দন না জানিয়ে ভারতীয় দল কি ভুল করেছে?’ টুইটারে এই প্রশ্ন দেখে ক্যান্ডিসের জবাব, ‘অবশ্যই’। এখানেই শেষ নয়। ক্যান্ডিস টুইটারে আরও লিখলেন, ‘বোঝাই যাচ্ছে খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতাকে মূল্য দিতে জানে না ওরা। ওদের কাছে এর কোনও অর্থই নেই’।

ক্রিকেটারদের মধ্যে মাঠে বা মাঠের বাইরে বাগ্‌যুদ্ধ পরিচিত দৃশ্য। এমনকী, ক্রিকেটারদের স্ত্রী এবং বান্ধবীদেরও অনেক সময় জনরোষের শিকার হতে হয়েছে। কেই বা ভুলেছেন ইডেনে সুনীল গাওস্করের স্ত্রী মার্সেলিনকে ক্ষিপ্ত জনতার কমলালেবু ছুড়ে মারার ঘটনা। কিন্তু তাই বলে খেলা চলাকালীন কোনও ক্রিকেটারের স্ত্রী সরাসরি নিজেদের দলকে সমর্থন জানিয়ে বিপক্ষের উদ্দেশে তোপ দাগছেন এরকম ঘটনার কথা কেউই মনে করতে পারছেন না।

বিষাণ সিংহ বেদীর মতো প্রাক্তন তারকা অবশ্য কড়া ভাষায় ওয়ার্নারের স্ত্রী’র নিন্দা করেছেন। শনিবার মোবাইল ফোনে ঘটনাটা শোনার পর বেদী বললেন, ‘ক্রিকেটারদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হতে পারে। তাই বলে স্ত্রীদের এসবে জড়িয়ে পড়া সমর্থন করি না। এতে মাঠের বাইরেও তিক্ততা তৈরি হয়।’ মাইকেল ক্লার্ক আবার ক্যান্ডিসের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। রাঁচিতে কমেন্ট্রি বক্স থেকে বেরনোর সময় ক্লার্কের প্রতিক্রিয়া, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় যে কেউ ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করতেই পারে।’

টুইটারে অবশ্য প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েন ক্যান্ডিস। কেউ কেউ ওয়ার্নারের জো রুট’কে ঘুসি মারার প্রসঙ্গ তুলে কটাক্ষ করেন। একজন টুইট করেন, ‘আমরা ভারতীয়রা অন্তত মদ্যপান করে বিপক্ষ ক্রিকেটারকে ঘুসি মারি না।’ পরে ক্যান্ডিস টুইট করেন, ‘শান্ত হোন সকলে। আমি বলছি না অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারেরাও সাধু। আমি শুধু একটা উদাহরণ দিয়েছি।’

চেতেশ্বর পূজারা সেঞ্চুরি করার পর শনিবার স্মিথ, ম্যাক্সওয়েল’রা হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তবে সুযোগ পেলে স্লেজিং করতেও ছাড়েননি। প্যাট কামিন্স-জস হ্যাজ‌্লউড’রা বেশ কয়েকবার ব্যাটসম্যানের দিকে ফলো থ্রু’তে তেড়ে গিয়ে মন্তব্য করলেন। বাউন্ডারি লাইনে ডাইভ দিয়ে বল আটকানোর চেষ্টা করার পর ম্যাক্সওয়েল ডান কাঁধে হাত দিয়ে ইঙ্গিত করলেন। যেন কোহলির কাঁধের চোটের কথা মনে করিয়ে দিয়ে মানসিকভাবে চাপ তৈরির চেষ্টা করলেন ভারতীয় শিবিরের ওপর।

কোহলিও পাল্টা বিদ্রুপ করতে ছাড়েননি। স্টিভ ও’কিফের বলে চেতেশ্বর পূজারার বিরুদ্ধে এলবিডব্লিউয়ের আবেদন করেছিলেন অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারেরা। আম্পায়ার সেই আবেদন নাকচ করে দিলে ডিআরএস নেন স্মিথ। তৃতীয় আম্পায়ার পূজারা’কে নট আউট দিতেই ড্রেসিংরুমের দরজা ঠেলে ব্যালকনিতে বেরিয়ে হাততালি দিতে থাকেন কোহলি। অস্ট্রেলিয়ার দু’টি ডিআরএস ব্যর্থ হওয়ায় যেন তাঁর কটাক্ষ। যা নিয়ে দিনের খেলার শেষে সাংবাদিক বৈঠকে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং কোচ ডেভিড স্যাকার বলে গেলেন, ‘আমরা জানি বিরাট বেরিয়ে এসে হাততালি দিয়েছিল। তবে সেটা নির্দিষ্ট কারও উদ্দেশে কি না, বলতে পারব না। এই সিরিজে ও এভাবেই খেলছে। কোনও দল দু’টি ডিআরএসের সুযোগ নষ্ট করে বসলে প্রতিপক্ষ দলের স্বস্তি হওয়াটা স্বাভাবিক।’ আরও বললেন, ‘বিশ্বের প্রথম ও দ্বিতীয় দলের মধ্যে খেলা হচ্ছে। সকলেই চাপে রয়েছে।’

যা পরিস্থিতি, তাতে বাকি দু’দিনও দুই শিবিরের অগ্নিগর্ভ অবস্থা বদলানোর সম্ভাবনা নেই। ক্যান্ডিসের টুইট না সেই উত্তেজনার আগুনে ঘৃতাহুতি হয়ে দাঁড়ায়!