১০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০১৭ , ১:২৮ অপরাহ্ণ

এবার ছাত্রলীগের বিরুদ্ধেই ছাত্রলীগ!


গো নিউজ২৪ | মিলিতা বাড়ই আপডেট: ১৪ জুলাই ২০১৭ শুক্রবার
এবার ছাত্রলীগের বিরুদ্ধেই ছাত্রলীগ!

ঢাকা: ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিলাসী জীবন, টাকার ভাগাভাগি, দরপত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এবার মুখ খুললেন খোদ ছাত্রলীগ নেতারাই। কমিটির মেয়াদের বিষয়ে অভিযোগ ওঠার পরই শুরু হয় বিতর্ক। এরপর শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধেই দাঁড়ালেন সিনিয়র নেতারা।

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে গেল বুধবার (১৪ জুলাই) ছাত্রলীগের সাধারণ সভায়। দেশজুড়ে নিজেদের চলমান কোন্দল-সংঘাতের মধ্যেই আয়োজন করা হয় ওই সভার। আর সেই সভাতেই বিতর্কের সূত্রপাত করেন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সায়েম খান।

সভায় ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন তোপের মুখে পড়েন। কেন্দ্রীয় একাধিক বিক্ষুব্ধ নেতা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে তাদের বিলাসী জীবনযাপনে অর্থের উৎস, সংগঠনের তহবিলে আসা অর্থ ও খরচের খাত সম্পর্কে জানতে চান।

এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি উন্নয়নকাজের দরপত্র নিয়ন্ত্রণ বা টেন্ডারবাজি করে টাকা উপার্জনের অভিযোগও সভায় উত্থাপিত হয়। এসব টাকার ভাগও দাবি করেন এক নেতা। টাকার হিসাব চাওয়া নিয়ে সভার একপর্যায়ে হট্টগোলও হয়।

চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি ঈশ্বরদীতে কর্মশালা ও সম্মেলনে হেলিকপ্টারে করে যোগ দিতে গিয়ে এমনিতে তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান। এ নিয়ে খোদ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও প্রকাশ্য সভায় সমালোচনা করেছিলেন।

সমালোচিত এই নেতা সাইফুর রহমান অবশ্য দাবি করেছেন, সাধারণ সভায় তাদের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগকারী সায়েম খান তার বক্তব্যের জন্য ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন। তবে সায়েম খান সোজা বলে দিয়েছেন, তিনি ক্ষমা চাননি। তার কথা, তাকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি তার বক্তব্য থেকে সরে যাননি। 

সায়েম খান বলেছেন, ‘আমি শুধু ছাত্রলীগের ফান্ডের টাকা, যেগুলো ছাত্রলীগের নামে আসে, সেটার নিয়মতান্ত্রিক ব্যয়ের কথা বলেছি। ছাত্রলীগ করে কেন শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ভালো থাকবে? অন্য নেতাদের দায়িত্বও তাদের নিতে হবে।’

সায়েম খান ছাড়াও কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মেহেদী হাসান, আদিত্য নন্দী, মাকসুদ রানাও ওই সভায় ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে আরো বহু অভিযোগ উত্থাপন করেন। এক পর্যায়ে নেতারা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছে টাকার হিসাব দাবি করলে চরম হট্টগোল শুরু হয়।

সূত্রমতে, আগামী ২৬ জুলাই ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বর্ধিত সভা করে মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না, বুধবারের সাধারণ সভায় এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তবে সভাপতি জানিয়েছেন সেটা নির্ভর করছে দলীয় সভাপতির ওপর। তিনি যেদিন সম্মেলন দিতে বলবেন, সেদিনই সম্মেলন করবেন তারা।

সূত্রমতে, ছাত্রলীগের দলীয় কোন্দল কেন্দ্রীয় পর্যায়েও রয়েছে। কিন্তু সাধারণ সভায় এভাবে প্রকাশ্যে স্পর্শকাতর বিয়ে অভিযোগ করার ঘটনা এর আগে ঘটেনি। গণমাধ্যমে তা ফলাও করে প্রচারও করা হয়নি। আধিপত্য বিস্তার, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, দরপত্র ভাগাভাগি, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণই ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সংঘাতের মূল কারণ। তবে এসব কর্মকাণ্ড খুব গোপনেই করা হতো। কখনও কখনও নিজেদের মধ্যে মারামারিও লেগে গেলে তা প্রকাশ্যে আসতো।

বর্তমান ছাত্রলীগের সভাপতি আর সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে সাধারণ সভায় যেসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে তা সঠিক বলে দাবি করছেন অভিযোগকারী শীর্ষ নেতারা। দলীয় প্রধানের কাছ থেকে প্রতি মাসে যে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে তার ভাগও তারা দাবি করেন। এছাড়া সারা দেশে ছাত্রলীগের যারা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ারও জোর দাবি করেন।

উল্লেখ্য, গেল ১১ জুন ছাত্রলীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি সভায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, টাকার জন্য কোনো অপকর্মে যাওয়া যাবে না। টাকার দরকার হলে আমার কাছে আসবে। আমি নেত্রীর সঙ্গে আলোচনা করব। দলের সাধারণ সম্পাদকের ওই পরামর্শের পর ছাত্রলীগে শুদ্ধিকরণ ও জবাবদিহিতার চর্চার অনুপ্রেরণা আসে। এরপরেই ছাত্রলীগের এক পক্ষের বিরুদ্ধে দাঁড়ালেন আরেক পক্ষ।

গো নিউজ২৪/এন