১০ শ্রাবণ ১৪২৪, মঙ্গলবার ২৫ জুলাই ২০১৭ , ১০:৪১ অপরাহ্ণ

এইচআইভি প্রতিরোধী কোষ আবিষ্কার!


গো নিউজ২৪ | স্বাস্থ্য প্রতিবেদক আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০১৭ বৃহস্পতিবার
এইচআইভি প্রতিরোধী কোষ আবিষ্কার!

এইচআইভি প্রতিরোধী যুগান্তকারী কোষ আবিষ্কারে সক্ষম হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এইচআইভির বিরুদ্ধে লড়াই করা অ্যান্টিবডি নিরাপদ কোষ রিসেপ্টরে সফল হয়।

কোষকে নিরাপদ করতে এইচআইভি প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি আবিষ্কারের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা বড় সাফল্য পেয়েছেন। যেখানে তারা  ভাইরাসের পথে কোষ প্রতিরোধী ব্যবস্থা আবিষ্কার করেন।

এই প্রতিরোধী কোষ দ্রুত অসুস্থ কোষে স্থাপন করা যাবে। ফলে মারাত্বক রোগটি অন্যান্য থেরাপির চেয়ে বেশি কার্যকরভাবে আরোগ্য লাভের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

বিজ্ঞানীরা ক্যলিফোর্নিয়ার জিন থেরাপি সেন্টারের গবেষকদের সঙ্গে নব উদ্ভাবিত এই থেরাপির কাযক্ষমতা এবং নিরাপদ পরীক্ষার বিষয়ে আলোচনার পরিকল্পনা করেন। রোগীদের মধ্যে পরীক্ষা করার পূর্বে ফেডারেল আইনের বাধ্যবাধকতা থাকায় নিয়মনীতি মেনেই এসব করতে হয় তাদের।

ক্যালিফোর্নিয়ার স্ক্রিবস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষকরা প্রথম রিনোভেরাসের বিরুদ্ধে তাদের সিস্টেম পরীক্ষা করেন, যেটি ঠান্ডাজনিত রোগের অন্যতম কারণ। মানব কোষে একটি নতুন জিন প্রদান করতে তারা লেন্টিভাইরাস নামে একটি ভেক্টর ব্যবহার করেন।

তারপর মানব কোষ রিসেপ্টরের সঙ্গে একটি কোষ সমন্বয় অ্যান্টিবডি বাঁধান হয় যেন রিনোভেরাস প্রবেশ করতে পারে। সেই অংশে অ্যান্টিবডি একচেটিয়াভাবে থাকে, ফলে ভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে দিতে কোষে প্রবেশ করতে পারে না।

অ্যান্টিবডির সুরক্ষা ছাড়া কোষ মারা যায়। ফলে সুরক্ষিত কোষ জীবিত থেকে কয়েকগুণ বাড়ে, সুরক্ষিত জিন অতিক্রম করে নতুন কোষে।

টিএসআরআই এর সিনিয়র লেখক ড.রিচার্ড লার্নার বলেন, এটি সত্যি এক ধরনের সেলুলার টিকা।

গবেষকরা জানিয়েছেন, নতুন উদ্ভাবিত থেরাপির একটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা রয়েছে যেখানে অ্যান্টিবডি একটি অপেক্ষাকৃত কম ঘনত্ব রক্তধারায় অবাধে ভাসে।

ড. জিয়া জাই, টিএসআরআই এর সিনিয়র স্টাফ বিজ্ঞানী এবং এই গবেষণার প্রথম লেখক এটিকে ‘প্রতিবেশী প্রভাব’ বলে বর্ননা করেন। নিকটবর্তী একটি অ্যান্টিবডি আটকে যাওয়া, স্রোতের সর্বত্র ভাসমান অনেক অ্যান্টিবডি না থাকার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর।

বিজ্ঞানীরা আরো নিশ্চিত করেছে যে, এই সফল অ্যান্টিবডিগুলো এইচআইভিকে মুক্ত ভাসমানের চেয়ে অধিক কাযকরভাবে অবরুদ্ধ করে। চূড়ান্ত লক্ষ্য থাকবে অন্যান্য ওষুধের প্রয়োজন ছাড়াই রোগীদের মধ্যে এইচআইভির নিয়ন্ত্রণ করা।

এইচআইভি চিকিৎসাযোগ্য কিন্ত নিরাময়যোগ্য নয়। এই রোগ অনেক যাতনার কারণ হয়ে থাকে। এজন্যই এ প্রযুক্তি এতো গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান ড. জোসেফ আলবার্নাস।

এই গবেষণার পরবর্তী পদক্ষেপ হবে ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্টিবডি সেল পৃষ্ঠের ওপর একটি ভিন্ন রিসেপ্টর রক্ষা করা হতে পারে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকসাস এর ড. কার্ল ডিফেনবেচ ডেইলি মেইল অনলাইনকে জানান, ‘এই ধারণার নকশাটি আকর্ষণীয় কিন্ত একটি মৌলিক সমস্যা হলো জিন থেরাপি।’

তিনি বলেন, কিভাবে জানা সম্ভব হবে যে, অ্যান্টিবডি স্থাপনের জন্য সঠিক কোষ কোনটি? তিনি ব্যাখ্যা করেন, বৃহৎ বৈচিত্রতা তৈরি করার জন্য এইচআইভি খুবই জঘন্য। অ্যান্টিবডির সঙ্গে এই ভাইরাসের কিছু কোষ পপুলেশন আবদ্ধ না হলে ঘটবে যে, আপনি সংবেদনশীল কোষ মেরে ফেলবেন কিন্ত ভাইরাস বাড়তে থাকবে।

ভাইরাসের বিভিন্ন রুপান্তরের কারণে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ড্রাগের সঙ্গে আমাদের তিনটি ড্রাগ ককটেল ব্যবহার করতে হবে যেন আপনি অ্যন্টিবডির একটি অনুরূপ ককটেল ব্যবহার করতে পারেন।

ডা. ডিফেনবেচ জানান, ‘গত পাঁচ বছরে এমন আশা জাগানিয়া প্রতারণামূলক গবেষণার বিরাট সাফল্য আমরা দেখেছি। নতুন এই উদ্ভাবনটি ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় প্রমাণিত হতে হবে।’

‘আমাদের বিস্ময়কর থেরাপি এবং সত্যিই কার্যকর থেরাপি আছে। কিন্ত আমরা এখনো সেই অবস্থানে পোঁছতে পারিনি যার ফলে আরোগ্য লাভ কিংবা টিকা আবিষ্কার করা সম্ভব হয়।’

গোনিউজ২৪/এম