২ পৌষ ১৪২৪, রবিবার ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ , ৬:২৯ পূর্বাহ্ণ

ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে আলু চাষাবাদ শুরু


গো নিউজ২৪ | উপজেলা প্রতিনিধি আপডেট: ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার
ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে আলু চাষাবাদ শুরু

নন্দীগ্রাম (বগুড়া): জেলার শস্যভাণ্ডার খ্যাত নন্দীগ্রাম উপজেলায় বছরে ৩ বার ধানের চাষাবাদ হয়। আমন ধান কাটার পর ফসলি জমিতে রবিশস্যের চাষাবাদ করে এখানকার চাষিরা। চলতি আমন মৌসুমে ধান কাটা মাড়াই প্রায় শেষ। উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন মাঠে চাষিরা এখন আলু চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।

গত বছর উপজেলার আলুর বাম্পার ফলন হলেও লাভবান হতে পারেনি আলু চাষিরা। আলুর ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় তাদের লোকসান গুনতে হয়েছে।

উপজেলার বেশির ভাগ চাষি বিভিন্ন বেসরকারি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেন। গত বছর আলুর ন্যায্য মূল্য না পেয়ে অনেক চাষি তাদের ঋণের টাকা এখনও পরিশোধ করতে পারেননি। তাই এবার ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে আলু চাষে মাঠে নেমে পড়েছে চাষিরা। গত বছরের লোকসান থেকে মুক্তি পেতে এবার বাড়তি ঝুঁকি নিচ্ছে তারা।

আলু চাষিরা লাভের আশার আলু স্টোরে সংরক্ষণ করে। সেখানে প্রতি বস্তা আলু ক্রয় ও স্টোর ভাড়া বাবদ ১৩০০ টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে এক বস্তা আলু বিক্রয় হচ্ছে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। এতে করে আলু চাষিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা য়ায়, এ বছর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ছয় হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে গিয়ে আলু চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা গতবারের লোকসান পুষে নিতে লাভের আশায় এবারও আলু চাষ করছে। তুলাশন গ্রামের আলু চাষি আব্দুল করিম বলেন, ‘আমি প্রায় একশ বিঘা জমিতে আলু চাষ করছি। গত বছর আমার অনেক লোকসান হয়েছে। আশা করছি এবার কোনো ধরনের সমস্য না হলে লাভবান হতে পারব।’

কহুলী গ্রামের আলু চাষি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আলু চাষের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি। গতবার আলু চাষ করে অনেক টাকা লস হয়েছে। তারপরও গত বছরের ক্ষতি পুষে নিতে এবারও আলু চাষ করছি। ’ তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আমাদের আলু চাষের প্রয়োজনীয় সকল প্রকার পরামর্শ দিচ্ছে। এতে করে আমরা উপকৃত হচ্ছি।’

কথা হয় বিএডিসি’র পরিবেশক জিয়া এন্টারপ্রাইজ এর সত্ত্বাধিকারী জিয়াউর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, ‘গত বছর অনেক চাষিকে আলুর বীজ বাকি দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত সম্পন্ন টাকা পরিশোধ করতে পারেনি। আলুর দাম কম থাকায় আলুচাষিরা অসহায় হয়ে পরেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কৃষকদের সঠিক মূল্যে আলু বীজ সরবরাহ করছি। তবে গত বছরের চেয়ে এবার আলুর বীজের চাহিদা কম।’

উপজেলা কৃষি অফিসার মোহা. মুশিদুল হক জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আলু চাষিদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে এবারও আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও জানান, আলু চাষের জমিগুলোর উর্বরতা বেশি থাকায় ইরি-বোর চাষে এর সুফল পাবে চাষিরা।  

গোনিউজ/এমবি