১০ আষাঢ় ১৪২৪, শনিবার ২৪ জুন ২০১৭ , ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ

ইউরোপে মুসলিম নারীদের চাকরি পাওয়া কঠিন হবে?


গো নিউজ২৪ | ওমেন‘স কর্নার প্রতিবেদক আপডেট: ১৫ মার্চ ২০১৭ বুধবার
ইউরোপে মুসলিম নারীদের চাকরি পাওয়া কঠিন হবে?

মঙ্গলবার এক রায়ে ‘ইউরোপিয়ান কোর্ট অফ জাস্টিস’ বলেছে, কোম্পানিগুলো কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তাদের কর্মীদের হেডস্কার্ফসহ দৃশ্যমান সব ধর্মীয় প্রতীক পরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। এই রায়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
 
বেলজিয়ামের এক মুসলিম নারীর মামলার প্রেক্ষিতে এ রায় দেয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ আদালত ‘ইউরোপিয়ান কোর্ট অফ জাস্টিস’ (ইসিজে)। সামিরা নামের ওই নারী বেলজিয়ামের একটি নিরাপত্তা কোম্পানিতে চাকরি করতেন। 

২০০৬ সালে তিনি হেডস্কার্ফ পরে চাকরিস্থলে যেতে চাইলে কোম্পানির পক্ষ থেকে তাকে বলা হয়েছিল, বিষয়টি (হেডস্কার্ফ পরে অফিসে আসা) কোম্পানির নীতিমালারবিরোধী। ওই নীতিমালায় অফিসে কর্মীদের ‘রাজনৈতিক, দার্শনিক ও ধর্মীয় প্রতীক’ সম্বলিত পোশাক পরায় নিষেধাজ্ঞার কথা বলা আছে।
কিছুদিন পর বেলজিয়ামের ওই কোম্পানি সামিরাকে চাকরিচ্যুত করলে তিনি ইসিজেতে মামলা করেন।
 
রায়ে আদালত বলেছে, চাকরিদাতারা চাইলে কর্মস্থলে ‘রাজনৈতিক, দার্শনিক ও ধর্মীয় প্রতীক’ প্রদর্শনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে এবং এটি ‘প্রত্যক্ষ বৈষম্যমূলক’ হবে না।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউরোপীয় আদালতের রায়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেছে, এর ফলে চাকরিদাতারা ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে নারী এবং পুরুষদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ করার আরো সুযোগ পাবে।

বিভিন্ন ইসলামি সংগঠন ও জার্মানির প্রোট্যাস্ট্যান্ট চার্চ কর্তৃপক্ষও এই রায়ের সমালোচনা করেছে। তবে ইউরোপীয় সংসদে জার্মানির কনজারভেটিভ সাংসদ মানফ্রেড ভেবার ইইউ আদালতের রায় সমর্থন করে বলেছেন, ‘‘চাকরিদাতাদের কিছু পরিস্থিতিতে কর্মস্থলে হেডস্কার্ফ পরায় নিষেধাজ্ঞা দেয়ার ক্ষমতা থাকার বিষয়টি ঠিক।’’

জার্মানির ‘ফেডারাল অ্যান্টি-ডিসক্রিমিনেশন এজেন্সির ব্যার্নহার্ড ফ্রাংক বলেন, “ইসিজের রায়ের কারণে জার্মান কোম্পানিগুলো এখন সহজে ‘ধর্মীয় বা ভাবাদর্শিক প্রতীক’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে। এখন পর্যন্ত জার্মানিতে নারীরা নীতিগতভাবে কর্মস্থলে হেডস্কার্ফ পরতে পারেন।

ফ্রাংক মনে করছেন, আদালতের রায়ের কারণে ভবিষ্যতে মুসলিম ও শিখ নারীরা সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন, কারণ খ্রিস্টানরা চাইলে তাদের ক্রস পোশাকের নীচে ঢুকিয়ে রাখতে পারেন। কিন্তু হিজাব বা শিখদের পাগড়ি লুকিয়ে রাখা কঠিন।

এদিকে, ‘ফেডারাল অ্যান্টি-ডিসক্রিমিনেশন এজেন্সির প্রধান ক্রিস্টিনে ল্যুডার্স মনে করছেন, এই রায়ের কারণে ভবিষ্যতে হেডস্কার্ফ পরা নারীদের চাকরি পাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

গোনিউজ২৪/এম