৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বুধবার ২২ নভেম্বর ২০১৭ , ১০:৩৩ অপরাহ্ণ

আ.লীগ-বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী, যুদ্ধ হবে! 


গো নিউজ২৪ | জেলা প্রতিনিধি আপডেট: ১৩ নভেম্বর ২০১৭ সোমবার
আ.লীগ-বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী, যুদ্ধ হবে! 

পাবনা: পাবনা-৩ (চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর) আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে একাধিবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। মাঝে রাজত্ব করেছেন জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে বিজয়ী এমপি।  

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আসনটি ধরে রাখতে চায়।  আসনটির বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মোকবুল হোসেন।  তার নির্বাচনী এলাকায় রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, দু’টি কলেজ ও ৩টি হাইস্কুল সরকারিকরণসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী কে এম আনোয়ারুল ইসলামকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনেও সংসদ সদস্য হন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। 

তিনি ছাড়াও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রাপ্তির প্রত্যাশায় আরও রয়েছেন- পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আ. হামিদ মাস্টার, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, সেক্টর কমান্ডার ফোরামের পাবনা জেলা সভাপতি আ স ম আ. রহিম পাকন, চাটমোহর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন সাখো, কেন্দ্রীয় আ.লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আলিম, ভাঙ্গুড়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মো. বাকিবিল্লাহ, বিএমএ পাবনা জেলা শাখার সভাপতি ডা. গোলজার হোসেন, ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আশরাফুল কবির, ফরিদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সরকার, ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র খ ম কামরুজ্জামান মাজেদ, পাবনা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ আলম, কেন্দ্রীয় আ.লীগ নেতা আতিকুর রহমান আতিক প্রমুখ। 

এই তিন উপজেলার মধ্যে চাটমোহরে ভোটার বেশি। চাটমোহরবাসীর প্রত্যাশা, প্রার্থী তাদের উপজেলা থেকে নির্ধারণ করা হোক। এর মধ্যে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি পাবনা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আ. হামিদ মাস্টার চাটমোহরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন এবং এ আসনে তিনি নানাভাবে সহযোগিতা করার পাশাপাশি গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।  

আসম আ. রহিম পাকন নিজ উপজেলা ভাঙ্গুড়া ছাড়াও তিন উপজেলায় সেক্টর কমান্ডার ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ ৭১ এর কমিটি করে তার কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। 

ইঞ্জিনিয়ার আ. আলীম তিন উপজেলায় ব্যাপক গণসংযোগ করাসহ দলীয় নেতা-কর্মীদের উপহার প্রদান, নেতা-কর্মীদের সাথে মতবিনিময় অব্যাহত রেখেছেন। 

আলী আশরাফুল কবির বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করাসহ উঠান বৈঠক করে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরছেন। অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন সাখো দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ করার পাশাপাশি দলকে সংগঠিত করতে কাজ করছেন। কামরুজ্জামান মাজেদ দু’বার ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। সৎ ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ হিসেবে তার সুনাম রয়েছে।  

এদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সভাপতি, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য, সাবেক সংসদ সদস্য কেএম আনোয়ারুল ইসলাম, বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান ফখরুল আযম রনি, বিশিষ্ট শিল্পপতি রাজিউল হাসান বাবু, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সেন্ট্রি সিকিউরিটি সার্ভিসেস লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসানুল ইসলাম রাজা, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা, পাবনা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার, চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান হাসাদুল ইসলাম হীরা, ফরিদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহুরুল ইসলাম (বকুল), সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রবিউল করিম রবি প্রমুখ। 

এরমধ্যে কে এম আনোয়ারুল ইসলাম দু’বার এমপি ও দু’বার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিন উপজেলার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। আগামী নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পাবেন বলে অনেকের অভিমত। 

রাজিউল হাসান বাবু তরুণ নেতা ও সমাজসেবক হিসেবে ইতোমধ্যে তিন উপজেলায় পরিচিতি লাভ করেছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি দলকে সংগঠিত করতে কাজ করছেন। অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা। দলের দুর্দিনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। একাধিকবার মনোনয়ন চেয়েছেন দলের কাছে। 
হাসানুল ইসলাম রাজা তিন উপজেলায় পরিচিত মুখ। সমাজসেবক ও দানবীর হিসেবে পরিচিতি আছে তার। চালিয়ে যাচ্ছেন গণসংযোগ। চাটমোহর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসাদুল ইসলাম হীরা দলের দুঃসময়ে দলকে সংগঠিত করতে কাজ করেছেন। হামলা, মামলার শিকার হয়েছেন। একধিকবার বরখাস্ত হয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে। 

এছাড়া জাপা (এ) থেকে অ্যাডভোকেট আব্দুস ছাত্তার নির্বাচন করতে পারেন।  

গোনিউজ২৪/এমবি