২৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, সোমবার ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ , ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ

আবারো রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন শুরু করবে মিয়ানমার!


গো নিউজ২৪ | আন্তর্জাতিক ডেস্ক আপডেট: ১২ আগস্ট ২০১৭ শনিবার
আবারো রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন শুরু করবে মিয়ানমার!

রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিপীড়নের নতুন পরিকল্পনা নিচ্ছে মিয়ানমার সরকার। দেশটির রাখাইন রাজ্যে আবারো কারফিউ জারি এবং আরো সেনা মোতায়েন করতে যাচ্ছে তারা। শনিবার মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ক্রমাগত নিপীড়নের অভিযোগে জাতিসংঘ বারবার উদ্বেগ জানিয়ে আসলেও তার কোনো পরোয়া না করেই এই সিদ্ধান্ত নিলো দেশটি। ইতোমধ্যে নিরাপত্তা জোরদার করার নামে একটি সেনা ব্যাটেলিয়ন সেখানে পৌঁছেছে। এর আগে শুক্রবার (১১ আগস্ট) জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি ইয়াংগি লি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, মিয়ানমার সরকারের এই সিদ্ধান্ত উদ্বেগের প্রধান কারণ।

গত বছরের অক্টোবরে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইনে একটি পুলিশ চেকপোস্টে হামলার পর সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে সেখানে। রাজ্যটিতে কয়েক মাস ধরে রক্তাক্ত অভিযান পরিচালনা করছে সেনাবাহিনী। এরইমধ্যে ৭০ হাজার রোহিঙ্গাকে তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আসতে বাধ্য করেছে তারা। পালিয়ে এসে সেনারা কীভাবে তাদের ওপর যৌন সন্ত্রাস, হত্যাকাণ্ড আর অগ্নিসন্ত্রাস চালিয়েছে তার নির্মম বর্ণনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কাছে দিয়েছেন তারা।

দীর্ঘদিন ধরেই বৌদ্ধপ্রধান মিয়ানমারে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গারা। তাদের ওপর সরকারি অভিযানকে ‘জাতিগত বিনাশ’ বলে আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘ। সংখ্যালঘু এই গোষ্ঠিটিকে বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত জনগোষ্ঠিও মনে করে সংস্থাটি। মূলত রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে না মিয়ানমার সরকার।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী এবং সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে সরকার।’ ‘প্রয়োজনীয় এলাকায়’ কারফিউ জারির কথাও জানিয়েছে গণমাধ্যমটি। চরমপন্থা দমনেই এই পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

ধারণা করা হয়েছিল, সু চির দল ক্ষমতায় এলে তাদের একটা ব্যবস্থা হবে। কিন্তু তা হয়নি। বরং রোহিঙ্গা ইস্যুতে সামরিক সরকারের ভাষায়ই কথা বলছেন গণতন্ত্রপন্থি এই নেত্রী। গত বছরের অক্টোবরে মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের রাখাইন রাজ্যে (সাবেক আরাকান) সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে অভিযান অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। সামরিক বাহিনীর অভিযানের প্রেক্ষপটে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন অন্তত ৭০ হাজার রোহিঙ্গা।

শেষ পর্যন্ত রাখাইন অঞ্চলে সেনা অভিযানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সেনাদের পক্ষেই সাফাই গেয়েছেন তিনি। রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর সহিংসতা ও হত্যাযজ্ঞের ঘটনা তদন্তে দেশটিতে জাতিসংঘ যে মিশন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার সমালোচনাও করেছেন সু চি। এতে সমালোচিত হয়েছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। তার সমালোচনা করে বিবৃতি দিয়েছেন ১৩ জন নোবেলজয়ী। অনেকের অভিযোগ, মিয়ানমারে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছেন শান্তিতে নোবলজয়ী সু চি। নন্দিত বিশ্বনেত্রী থেকে নিন্দিত রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হয়েছেন তিনি।

গো নিউজ২৪/ আরএস