৬ শ্রাবণ ১৪২৪, শুক্রবার ২১ জুলাই ২০১৭ , ৬:৪৮ পূর্বাহ্ণ

আপন জুয়েলার্সের ২১১ কেজি স্বর্ণ, ৬৮ গ্রাম ডায়মন্ড ‘আটক’


গো নিউজ২৪ | নিউজ ডেস্ক আপডেট: ১৬ মে ২০১৭ মঙ্গলবার
আপন জুয়েলার্সের ২১১ কেজি স্বর্ণ, ৬৮ গ্রাম ডায়মন্ড ‘আটক’

গুলশানের আপন জুয়েলার্সের শোরুমে অভিযান চালিয়ে ২১১ কেজি স্বর্ণ ও ৩৬৮ গ্রাম ডায়মন্ড সাময়িক আটক করার কথা জানিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর।

গতকাল সোমবার শুল্ক গোয়েন্দার অভিযান শেষ হয়। রাতে শুল্ক গোয়েন্দা, বাংলাদেশ নামে ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।

শুল্ক গোয়েন্দা জানায়, এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও ডায়মন্ডের বৈধ সরবরাহের কোনো কাগজ দেখাতে পারেনি আপন জুয়েলার্স কর্তৃপক্ষ। এগুলো পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আইনানুগভাবে সাময়িক আটক করে দোকানের ভল্টে সিলগালা করে প্রতিষ্ঠানের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

ফেসবুক পেজে বলা হয়, এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন শুল্ক গোয়েন্দার উপপরিচালক মো. সাইফুর রহমান।

বাংলাদেশ জুয়েলারি অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা ও দোকান মালিক সমিতির প্রতিনিধি এ সময় উপস্থিত ছিলেন। আটক স্বর্ণ ও ডায়মন্ডের মোট মূল্য ৯৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

গত ৬ মে রাজধানীর বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা করা হয়। এতে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাফাতের বন্ধু নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী রহমত আলী ওরফে আবুল কালাম আজাদ। তাঁদের মধ্যে নাঈম ছাড়াই সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দুই ছাত্রী ধর্ষণ মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ২৮ মার্চ রাত ৯টা থেকে পরের দিন সকাল ১০টা পর্যন্ত আসামিরা মামলার বাদী এবং তাঁর বান্ধবী ও বন্ধু শাহরিয়ারকে আটক রাখেন। অস্ত্র দেখিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। বাদী ও তাঁর বান্ধবীকে জোর করে ঘরে নিয়ে যান আসামিরা। বাদীকে সাফাত আহমেদ একাধিকবার ও বান্ধবীকে নাঈম আশরাফ একাধিকবার ধর্ষণ করেন। আসামি সাদমান সাকিফকে দুই বছর ধরে চেনেন মামলার বাদী। তাঁর মাধ্যমেই ঘটনার ১০-১৫ দিন আগে সাফাতের সঙ্গে দুই ছাত্রীর পরিচয় হয়।

এজাহারে আরো বলা হয়েছে, ঘটনার দিন সাফাতের জন্মদিনে দুই ছাত্রী যান। সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ তাঁদের বনানীর ২৭ নম্বর রোডের দ্য রেইনট্রি হোটেলে নিয়ে যান। হোটেলে যাওয়ার আগে বাদী ও তাঁর বান্ধবী জানতেন না সেখানে পার্টি হবে। তাঁদের বলা হয়েছিল, এটা একটা বড় অনুষ্ঠান, অনেক লোকজন থাকবে। অনুষ্ঠান হবে হোটেলের ছাদে। সেখানে যাওয়ার পর তাঁরা ভদ্র কোনো লোককে দেখেননি। সেখানে আরো দুই তরুণী ছিলেন। বাদী ও বান্ধবী দেখেন, সাফাত ও নাঈম ওই দুই তরুণীকে ছাদ থেকে নিচে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এই সময় বাদীর বন্ধু ও আরেক বান্ধবী ছাদে আসেন। 

পরিবেশ ভালো না লাগায় তাঁরা চলে যেতে চান। এ সময় আসামিরা তাঁদের গাড়ির চাবি শাহরিয়ারের কাছ থেকে নিয়ে নেন। তাঁকে খুব মারধর করেন। ধর্ষণ করার সময় সাফাত গাড়িচালককে ভিডিওচিত্র ধারণ করতে বলেন। বাদীকে নাঈম আশরাফ মারধর করেন এবং তিনি প্রতিবাদ করবেন বলে জানিয়েছিলেন। এরপর বাদী ও বান্ধবীর বাসায় দেহরক্ষী পাঠানো হয় তথ্য সংগ্রহের জন্য। তাঁরা এতে ভয় পেয়ে যান। লোকলজ্জার ভয় এবং মানসিক অসুস্থতা তাঁরা কাটিয়ে উঠে পরে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে মামলার সিদ্ধান্ত নেন। এতে মামলা করতে বিলম্ব হয়।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত ও সাকিফ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে রিমান্ডে রয়েছেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ছাড়া আপন জুয়েলার্স ও রেইনট্রি হোটেলের মালিকদের তলব করেছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর।


গো নিউজ২৪/এএইচ