৬ আশ্বিন ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ৬:১৬ অপরাহ্ণ

আদর্শ স্বামী হতে যে গুণাবলী থাকা চাই !


গো নিউজ২৪ | ফারজানা আক্তার আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০১৭ মঙ্গলবার
আদর্শ স্বামী হতে যে গুণাবলী থাকা চাই !

স্বামী - স্ত্রী, প্রেমিক - প্রেমিকার সম্পর্ক সবসময় খুব সুন্দর।  দুইটি মানুষ নিজেরা নিজেদের বুঝতে বুঝতে খুব কাছাকাছি চলে আসে।  একজন মানুষ অন্য মানুষের যতই আপন হয় না কেনো তারপরও কিছু কথা থাকে যা একজন চায় অন্যজন নিজ দায়িত্বে বুঝে নিক।  এমনই কিছু বিষয় তুলে ধরা হলো যা একজন স্ত্রী সবসময় তার স্বামীর কাছে চায় কিন্ত মুখ ফুটে কখনোই বলে না।

সে যখন কথা বলে, মন দিয়ে শুনুন: বেশিরভাগ স্বামীই স্ত্রী কথা বললে নিজ ব্যস্ততার কারণে বা গুরুত্ব না দেয়ার কারণে মন দিয়ে শোনেন না।  কাজটা অত্যন্ত ভুল। স্ত্রী আপনার কাছে কোনো প্রতিউত্তর আশা করে না। সে চায়, আপনি শুধু মন দিয়ে শুনুন। তাতেই সে খুশী। এবং আপনার কাছে তার এই প্রত্যাশা সে কখনো মুখ ফুটে বলবেও না। নীরবে অপেক্ষা করবে, চাইবে আপনি এর প্রয়োজনীয়তা বুঝে নিজেই উদ্যোগী হবেন তার কথা শুনতে।

সৎ হোন: খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এটি ।   আপনার সঙ্গিনী কখনোই চাইবে না, আপনি মিথ্যে কথা বলুন তার সাথে। হয়তো অনেক ক্ষেত্রেই সে আপনার মিথ্যে বুঝতে পেরেও নীরব থাকবে, প্রত্যাশা করবে আপনার সত্য বলার। কিন্তু একবার অবিশ্বাস জমে গেলে সম্পর্কের জন্য তা অত্যন্ত ক্ষতিকর। কাজেই মেয়েরা সবসময় প্রত্যাশা করেন, আপনি সত্যবাদী হোন।

সহানুভূতিশীল হোন: মানুষ মাত্রই রাগ-দুঃখ-অভিমান ইত্যাদি আবেগে সমৃদ্ধ।  কারোর প্রকাশ একটু বেশি, কারোর কম।  তবে রাগ প্রকাশের ক্ষেত্রে ছেলেরা একটু বেশি এগিয়ে। অনেক সময় দেখা যায়, অন্যের ওপরের রাগও প্রিয়জনের ওপর ঝেড়ে দেয় ছেলেরা।  কিন্তু আপনি কী জানেন, আপনার এই কাজ কতখানি আঘাত করতে পারে আপনার সঙ্গিনীকে? মেয়েরা একটু বেশি অভিমানী হয়। আপনার এক মুহূর্তের এই ভুল আচরণ সম্পর্ককে ঠেলে দিতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতির দিকে।  সহানুভূতিশীল হোন, সঙ্গিনীর মানসিক অবস্থা বোঝার চেষ্টা করুন।

আবেগী হোন: ধরুন, আপনি আপনার সঙ্গীনিকে প্রচণ্ড ভালোবাসেন।  কিন্তু কখনো এই আবেগ প্রকাশ করলেন না।  তাতে কী লাভ হলো। হয়তো বলবেন, সবসময় কী এসব প্রকাশ করা যায় নাকি! কিন্তু বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, সঙ্গিনী আপনার কাছে আবেগের এই প্রকাশ চায়। তাই বলে আবেগ প্রকাশ করতে গিয়ে একদম আবেগপ্রবণ হয়ে যাবেন না।

কথা বলুন: অনেক বড় বড় সমস্যার সমাধান চলে আসে শুধুমাত্র আলোচনার মাধ্যমে।  আবার ঠিকভাবে কথা না বলায়ও সৃষ্টি হতে পারে বড় বড় সমস্যার। সম্পর্কের ক্ষেত্রে কথা বলাটা সবচেয়ে বেশি জরুরি।  আপনি একটা কিছু মনে রেখে দিলেন সঙ্গিনীকে প্রশ্ন না করেই, তাহলে কোনো এক সময় এই নীরবতাই সম্পর্কে টেনে আসবে তিক্ততা।   আপনি কথা বলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করুন এবং সঙ্গিনীর সাথে কথা বলুন সব বিষয়ে।


নিজেকে উন্নত করুন: মেয়েরা সবসময়ই সঙ্গীকে নিয়ে নিজ পরিবারে, বন্ধুমহলে, পরিচিতদের কাছে গর্ব করতে ভালোবাসে।  তাই নিজের কথাবার্তায়, চলাফেরায় উন্নত করুন।  খারাপ কোনো অভ্যাস থাকলে তা পরিহার করুন।

রান্না করুন: পুরুষ রান্না করতে পারুক আর না পারুক- মেয়েরা চায়, সঙ্গী মাঝে মধ্যে তাকে রান্নাঘর থেকে ছুটি দিক।  নিজে রান্না করে তাকে খাওয়াক।  সে জানে, আপনি রাঁধুনি হিসেবে খুবই খারাপ। হয়তো সে খাওয়ার সময় আপনার রান্নার সমালোচনা করবে। তবু হলফ করে বলে দেয়া যায়, সঙ্গিনী আপনার কাছে এই ব্যাপারটা প্রত্যাশা করে মনেপ্রাণে।  এ বিষয়েও তারা অপ্রকাশিত।  তারা চায়, আপনি নিজ দায়িত্বে বুঝে নিন এটা।

স্বৈরতান্ত্রিক অভ্যাস পরিত্যাগ করুন: সঙ্গিনী আপনার কাছে নিরাপত্তা প্রত্যাশা করে কিন্তু আপনার স্বৈরশাসকের মতো আচরণ পছন্দ করে না। সে আপনার সম্পত্তি নয়, সঙ্গিনী- কথাটা মাথায় রাখতে হবে ।  কাজেই তার ওপর কিছু চাপিয়ে দিয়ে সম্পর্কের তিক্ততা ডেকে আনবেন না।

রোমান্টিক হতে চেষ্টা করুন: মেয়েরা খুব বেশি রোমান্সপ্রিয় হয়। কাজেই আপনি যতই কাঠখোট্টা হবেন, তত বেশি অসন্তোষ জমবে সম্পর্কে।  কিন্তু এই প্রত্যাশার ব্যাপারেও সঙ্গিনী সবসময় নীরব থাকবে।  সে চাইবে, ব্যাপারটা আপনি নিজে বুঝে নিন।