১৪ চৈত্র ১৪২৩, বুধবার ২৯ মার্চ ২০১৭ , ৩:৩০ পূর্বাহ্ণ

আজ শুরু হচ্ছে প্রাণের বইমেলা


গো নিউজ২৪ আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ বুধবার
আজ শুরু হচ্ছে প্রাণের বইমেলা

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি ’ ভাই হারানোর ব্যথা আর মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষার গৌরবে আজ বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭’।

বাংলা ভাষা সাহিত্যের চর্চা, বিকাশ, বাঙালী সংস্কৃতির বহমান উদার অসাম্প্রদায়িক ধারায় অনন্য সংযোজন গ্রন্থমেলা বুধবার বিকেলে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাঙালী জাতিসত্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের প্রতীক বাংলা একাডেমির আয়োজনে মেলায় অংশ নেবে দেশের প্রায় সকল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। বই প্রকাশ প্রদর্শনী ও বেচা-কেনার এমন বর্ণাঢ্য আয়োজন সারাবিশ্বেই বিরল।

বাঙালি জাতি পুরো মাসজুড়ে ভালোবাসা জানাবে ভাষার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছিলেন।  ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ফেব্রুয়ারি ছিল ঔপনিবেশিক প্রভুত্ব ও শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম প্রতিরোধ এবং জাতীয় চেতনার প্রথম উন্মেষ কাল।

১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে দুর্বার আন্দোলনে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিকের রক্তের বিনিময়ে বাঙালি জাতি পায় মাতৃভাষার মর্যাদা এবং আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেরণা। তারই পথ ধরে শুরু হয় বাঙালির স্বাধীকার আন্দোলন এবং একাত্তরে নয় মাস পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

একুশের সেই চেতনাকে ধারণ করে অমর একুশে গ্রন্থমেলা। বইমেলার অনন্য সাধারণ শুরুটা করেছিলেন চিত্তরঞ্জন সাহা। ১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বর্ধমান হাউসের বটতলায় চটের বস্তা পেতে মাত্র ৩২ টি বই নিয়ে বসেছিলেন স্বপ্নবাজ এই প্রকাশক। বাংলাদেশী শরণার্থী লেখকদের লেখা এসব বই প্রকাশ করে চিত্তরঞ্জন প্রতিষ্ঠা করেন স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদ (বর্তমান মুক্তধারা প্রকাশনী)। বইগুলো স্বাধীন বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের প্রথম অবদান। নিজের প্রকাশিত বই নিয়ে একাই উদ্যোগটি অব্যাহত রাখেন চিত্তরঞ্জন।

১৯৭৬ সালে এই উদ্যোগের সাথে যুক্ত হয় আরও কয়েকটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এবং ১৯৭৮ সালে বাংলা একাডেমি, ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশক সমিতি যুক্ত হয়। 

কোনো কোনো সূত্রমতে, ১৯৮৩ সালে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মনজুরে মওলা বাংলা একাডেমিতে প্রথম অমর একুশে গ্রন্থমেলা আয়োজন করেন। বর্তমানে মেলা সম্প্রসারিত হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পর্যন্ত।

এদিকে এবারের মেলা সম্পর্কে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শাসমুজ্জামান খান জানান, আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনে ৭টি দেশের ২৭ জন কবি-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী-প্রাবন্ধিক অংশগ্রহণ করবেন। অংশগ্রহণকারী কবি-সাহিত্যিকরা আসবেন রাশিয়া, চীন, অস্ট্রিয়া, জার্মানী, পুয়ের্তোরিকো, সুইডেন ও ভারত থেকে।

তিনি বলেন, শুধু পশ্চিমবঙ্গ থেকেই আসবেন ১৮ জন কবি ও কথাসাহিত্যিক।

বইমেলা শুধু বইয়ের মেলায় সীমাবদ্ধ নেই। বাঙালীর আবেগ-ভালবাসার অনিন্দ্যসুন্দর প্রকাশ গ্রন্থমেলা একইসঙ্গে বাঙালী সংস্কৃতির উৎসবে পরিণত হয়েছে। বাসস

গো নিউজ ২৪/ এস কে 

শিল্প-সাহিত্য ও সংষ্কৃতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত