৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, সোমবার ২২ মে ২০১৭ , ১১:২৪ অপরাহ্ণ

আঙুলহীন হাতেই পরীক্ষা দিল শাহ আলম


গো নিউজ২৪ | জেলা প্রতিনিধি আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০১৭ রবিবার
আঙুলহীন হাতেই পরীক্ষা দিল শাহ আলম

লালমনিরহাট: জন্মের এক বছরের মাথায় দুই হাতের সব কটি আঙুল আগুনে পুড়ে গেছে; কিন্তু থেমে থাকেননি। দুই কবজির সাহায্যে লিখে চলতি বছরে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তার নাম শাহ আলম। 

তার বাড়ি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব বিছনদই গ্রামে। রোববার পরীক্ষা দেয়ার পর শাহ আলম জানালেন, তিনি ভবিষ্যতে শিক্ষক হতে চান।

সরেজমিনে হাতীবান্ধা মহিলা ডিগ্রি কলেজে কেন্দ্র গিয়ে দেখা যায়, দুই হাতের কবজির সাহায্য পরীক্ষার খাতায় লিখে যাচ্ছেন শাহ আলম।

পরীক্ষা শেষে কথা হয় শাহ আলমের সঙ্গে। তিনি জানান, হাতীবান্ধা আলিমুদ্দিন কলেজের বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র। পূর্ব বিছনদই গ্রামের বাবা একরামুল একজন বর্গা চাষি। মা মরিয়ম বেগম গৃহিণী। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে চতুর্থ। মাত্র এক বছর বয়সে আগুনে দুই হাতের আঙুলসহ প্রায় কবজি পর্যন্ত পুড়ে যায় তাঁর। চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের সামর্থ্য মা-বাবার না থাকায় অবশেষে ওই দুই হাতের সব কটি আঙুলই হারাতে হয় তাকে। কিন্তু ছোটবেলা থেকে পড়াশোনার অদম্য ইচ্ছা ছিল। স্থানীয় ব্র্যাক স্কুল থেকে শুরু লেখাপড়া। এরপর সমাপনী পরীক্ষায় ভালো ফল করায় সেই ইচ্ছাশক্তি আরও বেড়ে যায় বলে জানান তিনি। তবে পরিবারের অভাব-অনটন প্রায় সময় বাদ সাধলেও থেমে যাননি শাহ আলম। খেয়ে না-খেয়ে পড়াশোনা চালিয়ে জেএসসি ও এসএসসিতে ভালো ফল করে এবার এইচএসসি জয়ের স্বপ্ন আঁকছেন তিনি। এভাবে পড়াশোনা করেই ভবিষ্যতে শিক্ষক হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।

কলেজের অধ্যক্ষ সরওয়ার হায়াত খান বলেন, শাহ আলমের পড়াশোনায় বেশ আগ্রহ। সে একজন মেধাবী ছাত্র। কবজি দিয়ে লিখলেও হাতের লেখা এত সুন্দর যে তা কল্পনার অতীত। তবে সে ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে বলে আশা করেন তিনি।

বাবা একরামুল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আগুনে ছোটবেলা ছেলের দুটি হাতের আঙুল হারালেও মনোবল হারায়নি কখনো। সে এখন লেখাপড়া করে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু সাত সদস্যের অভাবী পরিবারের চাহিদা মেটাতে গিয়ে ছেলের সেই পড়াশোনার স্বপ্নপূরণ হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন বাবা একরামুল।

হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বদিউজ্জামান বলেন, ‘শাহ আলম প্রতিভাবান ছাত্র। তার দরিদ্র মা-বাবার পক্ষে লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যাওয়া খুবই কষ্টকর বলে শুনেছি। তাই সমাজের বিত্তবান কেউ শাহ আলমের পাশে দাঁড়ালেই অর্থাভাব তার ভবিষ্যৎ স্বপ্নপূরণে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।’

গোনিউজ২৪/এম