৫ কার্তিক ১৪২৪, শনিবার ২১ অক্টোবর ২০১৭ , ৩:২৯ পূর্বাহ্ণ
কিমের উদ্দেশে ট্রাম্প

অস্ত্র তাক করে রেখেছি, ভুল করলেই হামলা


গো নিউজ২৪ আপডেট: ১২ আগস্ট ২০১৭ শনিবার
অস্ত্র তাক করে রেখেছি, ভুল করলেই হামলা

এবার উত্তর কোরিয়াকে টুইটারে হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র দেশটির দিকে অস্ত্র তাক করে রেখেছে, কিম প্রশাসন কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিলেই হামলা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর যুদ্ধের ব্যাপারে মোটেও আগ্রহী নয়। কূটনীতির পথেই উত্তর কোরিয়া সংকটের সমাধান চায় তারা। যদিও ট্রাম্প ধারাবাহিবভাবে হুমকি দিয়েই যাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার টুইটার বার্তায় এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের সর্বশেষ প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলেছে (লকড অ্যান্ড লোডেড)।’ এখানে ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’ সামরিক টার্মটি ব্যবহার করা হয়েছে। এটি সামরিক ভাষায় একটি গালি। এ দিয়ে যুদ্ধের সর্বশেষ প্রস্তুতিকে বোঝানো হয়।

টুইটারে ট্রাম্প আরো লিখেছেন, ‘সামরিক পথে সংকটের সমাধানের সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। উত্তর কোরিয়া ভুল কিছু করলেই হামলা চালানো হবে। আশা করছি কিম জন বিকল্প পথ খুঁজবে।’ এমন এক সময়ে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এই হুঁশিয়ারি এলো, যখন কিম প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু যুদ্ধ বাধানোর অভিযোগ তুলছে।

গত ৪ ও ২৮ জুলাই দুটি আইসিবিএমের পরীক্ষা চালায় উত্তর কোরিয়া। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাব উত্থাপন করে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (৫ আগস্ট) সেই প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞায় উত্তর কোরিয়ার রপ্তানি বাণিজ্যের রাশ টেনে ধরা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে উত্তর কোরিয়ার ৩০০ কোটি ডলার রপ্তানির মধ্যে ১০০ কোটি কমে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এরপর থেকেই পিয়ংইয়ং-ওয়াশিংটন উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। শুরু হয় দু‌ই দেশের শীর্ষ নেতার পারস্পরিক হুমকিধামকি। ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন কিম। প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি গুয়ামে চলতি মাসেই হামলা করা হবে বলে দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কিম জং-উন হামলার পরিকল্পনা পাস করলে হুয়াসং-১২ রকেট জাপানের ওপর দিয়ে গুয়াম থেকে ৩০ কিলোমিটার (১৭ মাইল) দূরে সাগরে গিয়ে পড়বে। এ নিয়ে কোরীয় উপদ্বীপে এক ধরনের যুদ্ধাবস্থা চলছে। তবে  মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস দাবি করেছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘ দূতের তত্ত্বাবধানে কূটনৈতিক পথেই সংকট নিরসনের চেষ্টা চলছে।

বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) জেমস ম্যাটিস বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নেয়া তার দায়িত্ব। তবে তিনি মনে করেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন এবং জাতিসংঘে মার্কিন দূত নিকি হ্যালির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হচ্ছে।

গো নিউজ২৪/ আরএস