২৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, সোমবার ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ , ৩:০৯ অপরাহ্ণ

অভিভাবকরা কেন অতিরিক্ত টাকা দিল?


গো নিউজ২৪ | জেলা প্রতিনিধি আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০১৭ শনিবার
অভিভাবকরা কেন অতিরিক্ত টাকা দিল?

ভোলা: ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার কাশেমগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে অবিভাবকরা।

সরকার নির্ধারিত ফি মানবিক বিভাগে নিয়মিত ১ হাজার ৫০৫ টাকা, অনিয়মিত ১ হাজার ৭৯৫ টাকা, বিজ্ঞান বিভাগে নিয়মিত ১ হাজার ৫৯৫ টাকা, অনিয়মিত ১ হাজার ৮৮৫ টাকা, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে নিয়মিত ১ হাজার ৫০৫ টাকা, অনিয়মিত ১ হাজার ৭৯৫ টাকা এবং বার্ষীক ক্রীড়া মঞ্জুরি ফি প্রতিষ্ঠান প্রতি ৩০০ টাকা।  তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিভিন্ন অজুহাতে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি বাবদ ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫শ টাকা আদায় করছে। ফলে গরিব অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের পরীক্ষার ফি নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে।

অভিভাবক সিরাজুল ইসলাম জানান, তার মেয়ে কাসেমগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী। তার কাছ থেকে পরীক্ষার ফি বাবদ ৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।

অভিভাবক ফরিদ দালাল বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। আমার নাতনি কাসেমগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী। আমার কাছ থেকে ফরম ফিলাপের জন্য ৩ হাজার টাকা নিয়েছে। এ টাকা জোগাড় করতে আমার অনেক কষ্ট হয়েছে।’

অবিভাবক জসিম রানা জানান, তার মেয়ে কাসেমগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী। তার কাছ থেকে মেয়ের ফরম পূরণে ৩ হাজার টাকা নিয়েছে। এছাড়া ভুট্টো নামে আরেক অবিভাবক একই অভিযোগ করেছেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ নভেম্বর থেকে ফরম পূরণ শুরু হয়। এ বছর বরিশাল বোর্ড ফরম পূরণে মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের জন্য বোর্ড ফি নির্ধারণ করেছে ১ হাজার ৫০৫ টাকা।  বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ১ হাজার ৫৯৫ টাকা।  অন্যান্য ফিসহ সর্বোচ্চ ১৭শ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে।

এ ব্যাপারে কাসেমগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ফরম পূরণে কোনো অতিরিক্ত ফি নেই না।’

ভোলা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাকির হোসেন জানান, সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত ফি নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো বিদ্যালয় ছাত্র-ছাত্রীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি নিয়ে থাকে তাহলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বা উপজেলা নিবার্হী অফিসার অথবা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চরফ্যাশন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জিয়াউল হক মিলন জানান, কোনো বিদ্যালয়েই সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে নেয়ার নিয়ম নেই। শিক্ষকদের বোর্ড ফির বাইরে কোনো অর্থ না নিতে বলা হয়েছে। এরপরও কোনো বিদ্যালয় অতিরিক্ত ফি নিলে সেই বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘অভিভাবকরা কেন অতিরিক্ত টাকা দিল? এটা দেখার দায়িত্ব আমার না।  এ বিষয়টি দেখবেন জেলা শিক্ষা অফিসার।  তিনিতো পত্রিকা পড়ে সব কিছুই দেখতে পাচ্ছেন। তবুও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন?’

অভিভাবকরা নিরুপায় হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ফরমফিলাপ করতে বাধ্য হচ্ছেন।  টাকা না দিলেতো তাদের সন্তানরা পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে পারবে না এমন প্রশ্ন করা হলে মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই।’

গোনিউজ/এমবি