৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বুধবার ২২ নভেম্বর ২০১৭ , ৬:৫০ অপরাহ্ণ

অনাথ হাবিবার আলোচিত বিয়ে, চলছে প্রস্তুতি


গো নিউজ২৪ | আল মামুন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আপডেট: ১৩ জুলাই ২০১৭ বৃহস্পতিবার
অনাথ হাবিবার আলোচিত বিয়ে, চলছে প্রস্তুতি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শহরের তিতাস পাড়ার সরকারি শিশু পরিবারে গত ১০ বছর কেটেছে অনাথ শিশু হাবিবার। তার বয়স এখন আঠারো বছর। আর তাই শিশু পরিবারে তার জায়গা হবে না তার। তাই প্রয়োজন যোগ্য অভিবাবক। আর এই অভিবাবকের দায়িত্ব নিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান। 

শুধু দায়িত্ব নিয়েই শেষ হয়নি ১৪ জুলাই জেলার সবচেয়ে আলোচিত বিয়ে হচ্ছে তার। বিয়েকে ঘিরেই স্বামীর চাকরি হয়েছে পুলিশে। তোড়জোড়ে চলছে হাবিবাকে নববধূ সাজানোর প্রস্তুতি। অনেকটা রাজকীয় হালেই হতে যাচ্ছে হাবিবার বিয়ে। আলোচিত এ বিয়ের কথা এখন জেলার সকলের মুখে মুখে। হাবিবার বিয়েকে ঘিরে তার দীর্ঘদিনের আবাসস্থল সরকারি শিশু পরিবারেও এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। 

দাওয়াতপত্র বিতরণের কাজও উতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আর অভিবাবক হিসেবে বিয়েকে স্মরণীয় করে রাখতে সব ধরনের আয়োজন তদারকি করেছেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার কসবা উপজেলা সোনাগাঁ গ্রামের বাসিন্দা ও জেলা পুলিশ কনস্টেবল মো. জাকারিয়া আলমের সঙ্গে ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এতিম হাবিবার বিয়ে। এ বিয়েতে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী, জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমান এবং সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক রাজনীতিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণি-পেশার তিন শতাধিক মানুষ উপস্থিত থাকবেন। 

সরকারি শিশু পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ায় সরকারি শিশু পরিবার ছাড়তে হচ্ছে হাবিবাকে। তাই হাবিবাকে পুনর্বাসনের জন্য শিশু পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। হাবিবার বিয়ের জন্য ভালো ছেলের সন্ধান পেলে তার চাকরির ব্যবস্থা করারও আশ্বাস দেন তিনি। পরে হাবিবার জন্য পছন্দ করা পাত্র জাকারিয়াকে সম্প্রতি জেলা পুলিশে কনস্টেবল পদে চাকরির ব্যবস্থা করে দেন পুলিশ সুপার। পরবর্তীতে হাবিবার বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্বও নিজ কাঁধে তুলে নেন তিনি।

সরকারি শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক রওশন আরা জানান, হাবিবার বিয়ের আয়োজনসহ সবকিছুই এসপি মিজানুর রহমান করছেন। হাবিবার এ বিয়ে সমাজের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, শিশু পরিবার ছেড়ে দিতে হবে ভেবে হাবিবা অনিশ্চয়তায় ভুগছিল এবং যেতে চাচ্ছিল না। আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম হাবিবার জন্য চাকরির ব্যবস্থা করব। কিন্তু পরবর্তীতে তাকে ভালো পাত্রের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এজন্য একটি ছেলেকে পুলিশের চাকরি দেয়া হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই মিলে অসহায় হাবিবার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। হাবিবার মতো অন্য কেউ যদি এমন সমস্যায় পড়ে আমরা তার পাশেও দাঁড়ানোর চেষ্টা করব। হাবিবার বিয়েটি দেখে যেন অন্যদের পাশে সমাজের বিত্তরানরা দাড়ায় তাহলে আর কোন সমস্যা থাকবে না। তাই আমরা এই উদ্যোগ গ্রহন করেছি। 

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি শিশু পরিবারে ১৩ জুলাই সন্ধ্যায় গায়ে হলুদ ও একই স্থানে ১৪ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টায় হাবিবার বিয়ের অনুষ্ঠান। এখানে বর যাত্রীসহ প্রায় তিন শতাধিক অতিথি উপস্থিত থাকবেন। সন্ধ্যায় এসপি মিজানুর রহমান তার সরকারি বাংলো থেকে হাবিবাকে তার বরের হাতে তুলে দেবেন।

বিয়েতে অতিথিরা যেসব উপহার দিচ্ছেন
হাবিবার বিয়েতে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক সোনার গহনার সেট এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরি বর-কনের থাকার জন্য ঘর নির্মাণ করে  দেবেন। এছাড়া জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে উপহার হিসেবে দেয়া হবে আরও স্বর্ণালংকার, টিভি-ফ্রিজসহ নানান আসবাবপত্র।

গো নিউজ২৪/এএইচ